Connect with us

ক্রিকেট

২০১৯ আইসিসি বর্ষসেরা ক্রিকেটারদের নাম ও একাদশ

২০০৪ সাল থেকে প্রতি বছরই সব ফরম্যাটের সেরা খেলোয়াড়, সেরা উদীয়মান ক্রিকেটার, সেরা আম্পায়ার, বর্ষসেরা ওডিআই, বর্ষসেরা টেস্ট দল ঘোষনা করে থাকে ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইসিসি। ২০১৯ সালেরও সেরাদের তালিকা প্রকাশ করেছ আইসিসি। সব জায়গায়তেই ভারত, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড ও ইংল্যান্ডের খেলোয়াড়দের আধিপত্য।

বেন স্টোকস; image source: cricketaustralia

জায়গা মেলেনি কোন বাংলাদেশি, শ্রীলঙ্কান, দক্ষিন আফ্রিকান খেলোয়ারড়ের। বিশ্বকাপ ইতিহাসের একমাত্র খেলোয়াড় হিসেবে এক আসরে ৫০০ এর অধিক রান নেওয়ার পাশাপাশি ১০ উইকেট নেওয়া খেলোয়াড় সাকিব আল হাসানের হাতে উঠেনি কোন পুরষ্কার।

সাকিব আল হাসান; image source: icc

বর্ষসেরা ওডিআই দলে ৫ ভারতীয়, ২ জন করে নিউজিল্যান্ড ও ইংল্যান্ডের, ১ জন করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও পাকিস্তানি ক্রিকেটার জায়গা পেয়েছেন। আর টেস্ট দলে ৫ জন অজি, ৩ জন কিউই, ২ জন ভারতীয়, ১ জন ইংলিশ ক্রিকেটার জায়গা পেয়েছেন। দুই দলেই অধিনায়ক রাখা হয়েছে বিরাট কোহলিকে।

২০১৯ আইসিসি বর্ষসেরা পুরষ্কারগুলো যাদের হাতে উঠেছে-

বর্ষসেরা ক্রিকেটার (স্যার গারফিল্ড সোবার্স ট্রফি)- বেন স্টোকস (ইংল্যান্ড)

বর্ষসেরা টেস্ট ক্রিকেটার- পেট কামিন্স (অস্ট্রেলিয়া)

বর্ষসেরা ওডিআই ক্রিকেটার- রোহিত শর্মা (ভারত)

বর্ষসেরা উদীয়মান ক্রিকেটার- মারনুস লাবুশানে (অস্ট্রেলিয়া)

টি-টোয়েন্টি পারফরম্যান্স অব দ্য ইয়ার- বাংলাদেশের বিপক্ষে দীপক চাহারের ৬ রান দিয়ে ৭ উইকেট শিকার।

স্পিরিট অব ক্রিকেট পুরষ্কার- বিরাট কোহলি (ভারত)

বর্ষসেরা আইসিসি সহযোগীদেশ গুলোর সেরা ক্রিকেটার- কাইল কোয়েটজার (স্কটল্যান্ড)

বর্ষসেরা আম্পায়ার (ডেভিড শেফার্ড ট্রফি)- রিচার্ড ইলিংওয়ার্থ (অস্ট্রেলিয়া)

বর্ষসেরা ওডিআই দলে জায়গা পাওয়া খেলোয়াড়দের নাম ও তাদের পারফরম্যান্স-

রোহিত শর্মা

গত বছর ওডিআইতে দুর্দান্ত ফর্মে ছিলেন রোহিত শর্মা। বিশ্বকাপ, টেস্ট টি-টোয়েন্টি সবখানেই ছিল তার জয়জয়কার। আর সে ফর্মে থাকার পুরস্কার পেলেন হিটম্যান খ্যাত রোহিত। বিশ্বকাপে পাঁচটি সেঞ্চুরি পাওয়া রোহিত জায়গা পেয়েছেন আইসিসির বর্ষসেরা ওডিআই দলে।২২২ ওয়ানডেতে ৪৯ গড়ে ৮৯৫৪ রান করেছেন তিনি।

শাই হোপ

ওয়েস্ট ইন্ডিজের উইকেটরক্ষক-ব্যাটসম্যানকে দ্বিতীয় ওপেনার হিসাবে বেছে নিয়েছে আইসিসি। ইনিংস গড়ার ক্ষেত্রে তিনি যে কতটা দক্ষ, সে প্রমাণ তিনি রেখেছেন বারবার। ৭৫টি ওয়ানডেতে হোপের গড় প্রায় ৫১! আটটি সেঞ্চুরিও রয়েছে তার।

বিরাট কোহলি (অধিনায়ক)

দলের স্বার্থে তিনি যতই নিজের ব্যাটিং অর্ডার পরিবর্তন করার কথা বলুন, আইসিসি কিন্তু ভারত অধিনায়ককে রেখেছে তিন নম্বরেই। ২৪৩ ওডিআইতে ১১,৬২৫ রান করা কোহালিকে দলের অধিনায়কও বেছে নিয়েছে আইসিসি।

বাবর আজম

আইসিসির বর্ষসেরা টেস্ট কিংবা ওডিআই দুই দলেই জায়গা পাওয়া একমাত্র পাকিস্তানি ক্রিকেটার বাবর আজম। যাকে পাকিস্তানের বিরাট কোহলি বলা হয়। ৭৪ ম্যাচে ৫৪ এর উপর গড়ে খেলা বাবর নিঃসন্দেহে এই মুহূর্তে পাকিস্তানের সেরা ব্যাটসম্যান।

কেন উইলিয়ামসন

ওডিআই বিশ্বকাপে নিউজিল্যান্ডকে অসাধারণ নেতৃত্ব দেওয়া কেন উইলিয়ামসন ইতিমধ্যে বেশ সুনাম কুড়িয়েছেন। তবে দলের হয়ে চার নম্বরে নামা কিউই এই অধিনায়ককে দলের পাঁচ নম্বরে রেখেছে আইসিসি। বলা যায়, টেস্ট কিংবা ওয়ানডে নিউজিল্যান্ডের যেন কোন ফরম্যাটেই সেরা ক্রিকেটার তিনি।

বেন স্টোকস

নিঃসন্দেহে বর্তমান সময়ের অন্যতম একজন অলরাউন্ডার। ব্যাট হাতে হোক কিংবা বল হাতে, ইংল্যান্ডের সেরা ভরসা হয়ে উঠেছেন তিনিই। বিশ্বকাপেও তার পারফরম্যান্স ছিল নজরকাড়া। অ্যাশেজে হারতে যাওয়া ম্যাচকে জিতিয়েছেন তিনি, বল হাতেও সে ম্যাচে ছিলেন দুর্দান্ত।

বেন স্টোকস; Image Source: icc

বিশ্বকাপের ফাইনালে তার অনবদ্যতায় প্রথম বারের মতো বিশ্বকাপের শিরোপা জেতে ইংল্যান্ড। ৯৫ ওডিআইতে প্রায় ৪১ ব্যাটিং গড় এবং বল হাতে প্রায় ৪২ গড় রয়েছে স্টোকসের।

জস বাটলার (উইকেটরক্ষক)

দ্বিতীয় ব্রিটিশ ক্রিকেটার হিসাবে দলে রয়েছেন ডানহাতি বাটলার। লোয়ার অর্ডারে বিধ্বংসী ব্যাটিং করার ক্ষমতা রয়েছে তাঁর। ১৪২ ম্যাচে প্রায় চার হাজার রান করেছেন তিনি।

কুলদীপ যাদব

এই চায়নাম্যান বোলার যে কোনও দলের সম্পদ। এখনও পর্যন্ত ৪৩ টি ওয়ানডে ম্যাচ খেলেছেন তিনি। নিয়েছেন ৯৯টি উইকেট।

মোহাম্মদ শামি

যে কোনও মুহূর্তে প্রতিপক্ষের উইকেট তুলে নিতে দক্ষ শামি। ৭৪টি ওয়ানডেতে ১৩৬টি উইকেট নেন তিনি।

ট্রেন্ট বোল্ট

বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে বোল্টের একটা স্পেল শেষ করে দিয়েছিল ভারতের বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন। প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলে উইকেট তুলে নিতে দক্ষ এই পেসার ৮৯টি ওয়ানডে খেলে ১৬৪টি উইকেট নিয়েছেন তার ঝুলিতে।

মিচেল স্টার্ক

ওডিআইতে অজিদের অন্যতম ভরষা মিচেল স্টার্ক। যে কোনও মুহূর্তে প্রতিপক্ষের ব্যাটিং লাইনআপে ধস নামাতে পারেন স্টার্ক। ৮৬টি ওয়ানডে থেকে ১৭৫টি উইকেট তার ঝুলিতে।

বর্ষসেরা টেস্ট দলে জায়গা পাওয়া খেলোয়াড়দের নাম ও তাদের পারফরম্যান্স-

মায়াঙ্ক আগারওয়াল

২০১৮-এর ২৬ ডিসেম্বর টেস্টে অভিষেক হয় আগারওয়ালের। তারপর থেকে ৯টি টেস্টে ৬৭ এর উপর ব্যাটিং গড়ে টেস্টে ভারতের ওপেনিংয়ে অন্যতম ভরসা হয়ে উঠেছেন ময়াঙ্ক। আইসিসির বর্ষসেরা টেস্ট দলেও ওপেনার হিসেবেই জায়গা মিলেছে তার।

টম লাথাম

তিনটি সেঞ্চুরিসহ এই বছরটা খুবই ভাল কেটেছে এই কিউই ওপেনারের।নিউজিল্যান্ডকে বহু ক্ষেত্রে একাই রক্ষা করেছেন তিনি। দলে দ্বিতীয় ওপেনার হিসাবে তাকেই রেখেছে আইসিসি।

মার্নাস লাবুশানে

আইসিসির করা বদলি ক্রিকেটারের নতুন নিয়মে প্রথম মাঠে নামেন লাবুশানে। স্মিথের বদলি হিসাবে নামার আগে পর্যন্ত টেস্টে তার কোনও সেঞ্চুরিই ছিল না। নানা গুঞ্জনও উঠেছিল স্মিথের বদলি হিসেবে তার মাঠে নামা নিয়ে।

মার্নাস লাবুশানে; Image Source: icc

কিন্তু, সেখান থেকে একেবারে দলের সেরা ব্যাটসম্যান হয়ে উঠেন মার্নাস লাবুশানে। তার উত্থান সত্যিই চমকে দেওয়ার মতোই। তার পর থেকে শুধু রানই করে গিয়েছেন তিনি। ১৪ ম্যাচে ৬৩ এর বেশি গড়ে ইতিমধ্যেই ১৪৫৯ রান করে ফেলেছেন তিনি।

বিরাট কোহালি (অধিনায়ক)

আইসিসির বর্ষসেরা ওয়ানডে ও টেস্ট দলের অধিনায়ক হিসেবে নির্বাচিত হন বিরাট কোহলি। টেস্টে ইতিমধ্যেই ২৭ সেঞ্চুরি করে ফেলেছেন বিশ্বের অন্যতম সেরা এই ব্যাটসম্যান। টেস্টে গড় প্রায় ৫৫।

স্টিভ স্মিথ

টেস্টের দুই সেরা ব্যাটসম্যান যাদের মধ্যে সব সময়ই টেস্টের ব্যাটসম্যান র‍্যাংকিং এর এক ও দুই নাম্বার নিয়ে প্রতিযোগিতা চলে তারা হলে বিরাট ও স্মিথ। যদিও বর্তমানে ১ নাম্বারে স্মিথ আছেন।

স্টিভ স্মিথ; Image Source: icc

আর এই ডানহাতিকে ই সবাই বিশ্বের সেরা টেস্ট ব্যাটসম্যানের তকমা দেন। ৬৩ গড়ে সাত হাজারেরও বেশি রান করা স্মিথের রয়েছে ২৬টি সেঞ্চুরি।

বেন স্টোকস

ওডিআই এর পর টেস্ট দলেরও একমাত্র অলরাউন্ডার বেন স্টোকস। ৬১ টেস্টে ৩৬ এর উপর ব্যাটিং গড়, সঙ্গে ১৪২ উইকেট, ব্রিটিশ এই অলরাউন্ডার যে কোন দলেরই সম্পদ।

বিজে ওয়াটলিং(উইকেটরক্ষক)

২০০৯ সালের ডিসেম্বরে নিউজিল্যান্ডের হয়ে টেস্টে অভিষেক হয় ওয়াটলিংয়ের। ৬৮টি টেস্ট ম্যাচ থেকে ৩,৬৪৪ রান করেছেন তিনি। নিউজিল্যান্ডের হয়ে প্রথম উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান হিসেবে ডাবল সেঞ্চুরি করেন ওয়াটলিং। সে ম্যাচে ২০৫ রান করেন তিনি।

প্যাট কামিন্স

আইসিসির টেস্ট বোলিং র‌্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে আছেন অজি পেস বোলার কামিন্স। আগের থেকেও তিনি এখন পরিণত। ২০১৯ সালে ৯৯টি আন্তর্জাতিক উইকেট পেয়েছেন এই অজি বোলার। তিন ফরম্যাট মিলিয়ে বছরে সব চেয়ে বেশি উইকেটের মালিক তিনি। অজিদের বোলিং লাইনআপের মূল অস্ত্র বলা যায় তাকে।

মিচেল স্টার্ক

ভাল ছন্দে রয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার বাঁ হাতি এই পেসার। নিউজিল্যান্ডকে টেস্ট সিরিজে যথেষ্ট বেগ দিয়েছেন তিনি। তাছাড়াও বছর জুড়ে ছিল তার আধিপত্য। ৫৭টি টেস্ট ম্যাচ খেলে স্টার্কের সংগ্রহ ২৪৪ টি উইকেট।

নিল ওয়্যাগনার

৪৭টি টেস্ট ম্যাচ খেলে ২০৪টি উইকেট নিজের ঝুলিতে নিয়েছেন কিউই বোলার ওয়্যাগনার। অজিদের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় টেস্টে ওয়্যাগনার ২০টি উইকেট নেন।

নাথান লায়ন

সম্প্রতি লায়নের স্পিন সামলাতে পারেনি নিউজিল্যান্ড। ৯৬টি টেস্ট ম্যাচ থেকে ৩৯০টি উইকেট নেওয়া হয়ে গিয়েছে এই অফ স্পিনারের। নিজের সীমাবদ্ধতার কথা ভালই জানেন তিনি। বেশি পরীক্ষা নিরীক্ষার রাস্তায় হাঁটেন না।

Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More in ক্রিকেট