Connect with us

ক্রিকেট

এক দশকে ক্রিকেটের যত পরিবর্তন(পর্ব- ১)

espncricinfo

সময়ের পরিবর্তনের সাথে সাথে গতানুগতিক ভাবে পরিবর্তন ঘটে পারিপার্শ্বিক সকল কিছুরই। সময় আর যুগের চাহিদায় নতুনত্বের সন্ধানে ছুটে চলে সব কিছুই। সময়কালটা যখন মাস, বছর পেরিয়ে, দশকের ঘরে চলে যায় তখন পার্থক্যটা আকাশ পাতাল হওয়াটাই স্বাভাবিক। ১৪০ বছরের ক্রিকেট ইতিহাসেরও এমন অনেক দশক পার হয়েছে, দশক পেরিয়ে সেটা শতকও পূর্ণ করেছে। তাহলে চিন্তা করুন একাল আর সেকালের ক্রিকেটার পার্থক্যটা কি গগনচুম্বী হওয়াটা কি স্বাভাবিক নয়?

গত এক দশকে ক্রিকেটের জনপ্রিয়তা বাড়ানোর জন্য ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইসিসি ব্যাপক পরিবর্তন এনেছে ক্রিকেটের নিয়ম নীতিতে। অনেক পুরাতন নিয়ম বাদ দিয়ে আনা হয়েছে নতুন নিয়ম।

দুই পর্বের ধারাবাহিক প্রতিবেদনে তুলে ধরা হলো গত এক দশকে ক্রিকেটের যত পরিবর্তন তার এক প্রামাণ্যচিত্র।

দিবারাত্রি টেস্ট চালু

একবিংশ শতাব্দীর প্রথম দিকেই ক্রিকেটের নতুন ফরম্যাটের আবিভার্ব ঘটে। যোগ হয় নতুন মাত্রা। টেস্ট, একদিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের পর নতুন ফরম্যাট হিসেবে যোগ হয় টি-টোয়েন্টি। শর্ট ভার্সনের টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটটি খুব কম সময়ে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠতে থাকে। তখন থেকেই লং ভার্সন টেস্টের প্রতি মানুষের আগ্রহ কমতে থাকে। কয়েকটি হাই প্রোফাইল দলের ম্যাচ ছাড়া প্রায় অন্য সব টেস্ট ম্যাচ গুলোতে মাঠে দর্শকের উপস্থিতি কমতে শুরু করে।

দিবারাত্রি টেস্টের দৃশ্য; অ্যাডিলেড ওভাল; Image Source: espncricinfo

দীর্ঘ সময়ের খেলা ছেড়ে মানুষ তখন কম সময়ে বেশি উদ্দীপনার খোঁজে টি-টোয়েন্টিকে বেশি প্রাধান্য দিতে শুরু করে। এতে টেস্টের জনপ্রিয়তাও কমতে শুরু করে। ক্রিকেটের এই আদি ফরম্যাটের জনপ্রিয়তা ও ঐতিহ্য রক্ষার্থে ক্রিকেটের সর্বোচ্চ সংস্থা আইসিসি টেস্টকে ঘিরে নানা পরিকল্পনা ও উদ্যোগ গ্রহন করে। চিন্তায় আনে দিবারাত্রি টেস্ট আয়োজনের। যা টেস্টের জনপ্রিয়তা ফেরাবে বলে ক্রিকেট বিশ্লেষকরা মতামত পোষণ করেন।

তখন একে ঘিরে নানা রকম জল্পনা কল্পনা শুরু হয়। কর্মজীবী মানুষ এবং শিক্ষার্থীরা যেন খেলাটি উপভোগ করতে পারে সে ভাবেই নির্ধারণ করা হয় খেলার সুচী। যোগ করা হয় দিবা রাত্রি টেস্ট খেলার জন্য উপযোগী রঙের গোলাপি বল। যা ফ্লাড লাইটের আলোতে খেলতে সহযোগী। এ ক্ষেত্রে বায়ুমন্ডলের বিষয়টিও বিবেচনায় আনা হয়।

বাংলাদেশ ভারত দিবারাত্রি টেস্টে ইডেন গার্ডেনে দর্শকদের উপস্থিতি; Image Source: espncricinfo

২০১৫ সালে অ্যাডিলেডে সর্বপ্রথম দিবারাত্রি টেস্ট ম্যাচের আয়োজন করে আইসিসি। ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হয় অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের মধ্যে। সর্বশেষ ইডেনে অনুষ্ঠিত হওয়া বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যেকার দিবারাত্রি টেস্ট ম্যাচটি ছিল ১১তম দিবারাত্রি টেস্ট ম্যাচ। এতে মাঠে দর্শকদের উপস্থিতও ছিল নজরকাড়া। ১১ দিবারাত্রি টেস্টের একটিও এখনও ড্র হয় নি, ভাগ্য নির্ধারণ হয়েছে হার কিংবা জয়ে।

ওয়ার্ল্ড টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ

১৯৭৫ সাল থেকে অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে ওডিআই বিশ্বকাপ, ২০০৭ সাল থেকে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ, অথচ ক্রিকেটের আদি ফরম্যাট টেস্টের নেই তেমন কোন বড় আসর। দ্বিপাক্ষিক সিরজের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থেকে রয়েছে এর গন্ডি। টেস্টের জনপ্রিয়তা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এই দশকে আয়োজন করা হয় আইসিস ওয়ার্ল্ড টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ।

আইসিসি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ ট্রফি; Image Source: Icc

এই বছর আগষ্টে ইংল্যান্ড অস্ট্রেলিয়ার অ্যাশেজ সিরিজ দিয়ে শুরু হয় টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ ২০১৯-২১। দুই বছর ব্যাপী অনুষ্ঠিত এই টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ অংশগ্রহণ করেছে টেস্ট র‍্যাংকিং এর শীর্ষ নয় দল। প্রতিটি দল খেলবে ছয়টি করে সিরিজ। যেখানে থাকবে তিনটি হোম ও তিনটি অ্যাওয়ে সিরিজ। সিরিজ গুলো ২, ৩, ৪ অথবা ৫ ম্যাচের হয়ে থাকবে।

প্রতি সিরিজের জন্য নির্ধারিত পয়েন্ট ১২০। দুই ম্যাচের সিরিজ হলে প্রতি ম্যাচের পয়েন্ট হবে ৬০, আর যদি সিরিজটি পাঁচ ম্যাচের হয়ে থাকে তবে প্রতি ম্যাচের পয়েন্ট হবে ২৪। এইভাবে যত ম্যাচের সিরিজ হবে মোট পয়েন্ট ১২০ দ্বারা ম্যাচ গুলোকে ভাগ দিতে হবে।

কনকাশন সাবস্টিটিউট

২০১৪ সালে শেফিল্ড শিল্ড ম্যাচে খেলায় ব্যাটিং করার সময় মাথায় বলের আঘাত পান অজি ক্রিকেটার ফিলিপ হিউজ। এরপর হাসপাতালে দুইদিন কোমায় থেকে এই নশ্বর পৃথিবীকে বিদায় জানান তিনি। তার এই মৃত্যুতে শোকাভিভূত হয়েছিল পুরো ক্রিকেট বিশ্ব। তখন থেকে ক্রিকেটারদের নিরাপত্তা বিধানে নানা রকম অত্যাধুনিক পদ্ধতি নিয়ে গবেষণা শুরু করে আইসিসি।

ফিলিপ হিউজ; Image Source: espncricinfo

আনেন নানা নিয়মে পরিবর্তন ও সংযুক্তি। তারমধ্যে একটি হলো কনকাশন সাবস্টিটিউট। ১ আগষ্ট ২০১৯ অ্যাশেজ সিরিজ থেকে এই নিয়ম কার্যকর হয়। যা নারী ও পুরুষ উভয় ক্রিকেটের জন্য প্রযোজ্য। এই নিয়মটিকে ‘লাইক টু লাইক’ পদ্ধতি বলা হয়। অর্থাৎ, এ নিয়মে যিনি যে ক্যাটাগরির ক্রিকেটার, তিনি আহত হলে বা ব্যথা পেয়ে মাঠের বাইরে চলে গেলে একজন তার বদলে খেলতে পারবেন।

তবে সেই ব্যথা পাওয়া ক্রিকেটার যদি ব্যাটসম্যান হন, তাহলে তার পরিবর্তে ব্যাটসম্যান এবং বোলার হলে তার পরিবর্তে বোলার নামতে পারবে। যদি বোলার কিংবা ব্যাটসম্যান না থাকে তাহলে একজন অলরাউন্ডার নামবেন, তবে তিনি যদি বোলারের পরিবর্তে নামেন তবে শুধু বোলিংই করতে পারবেন, ব্যাটসম্যানের পরিবর্তে নামলে ব্যাটিং। এতে অবশ্য ম্যাচ রেপারির অনুমতি থাকতে হবে।

আর্চারের বাউন্সে আঘাত পাওয়ার মুহুর্তে স্টিভ স্মিথ; Image Source: espncricinfo
ঘাড়ে আঘাত লাগার পর মাটিতে লুটিয়ে পড়েন স্মিথ; Image Source: espncricinfo

অ্যাশেজের দ্বিতীয় ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার মার্নাস লাবুশানে প্রথম কনকাশন সাবস্টিটিউট হিসেবে মাঠে নামেন। তিনি স্টিভ স্মিথের পরিবর্তে ব্যাট করেছিলেন। আর্চারের বাউন্ডের আঘাতে মাঠ ছাড়তে হয়েছিল স্মিথকে। ১৮ আগস্ট লর্ডসের সেই অ্যাশেজ টেস্টে মাথায় আঘাত পেয়েছিলেন স্টিভ স্মিথ।

অটো নো বল পদ্ধতি

নো বল নিয়ে নতুন নিয়ম এনেছে আইসিসি। এই নিয়মে নো বলের কোন স্বীদ্ধান্তই অন ফিল্ড আম্পায়ার দিবেন না। এখন থেকে তা প্রদান করবেন টিভি আম্পায়ার। পরীক্ষামূলকভাবে কয়েকটি ম্যাচে এটি চালু করেছিল বিশ্ব ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইসিসি। এই বছরের শেষ নাগাদ হয়ে যাওয়া ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও ভারতের মধ্যকার টি-টোয়েন্টি সিরিজ দিয়ে পুরোপুরি ভাবে চালু হয়েছে এটি।

Image Source: espncricinfo

বর্তমানে আম্পায়ারিং নিয়ে চলছে তুমুল বিতর্ক। অনেকের মতে, আম্পায়ারিংয়ের মান দিন দিন খারাপ হচ্ছে। বিশ্বকাপে বাজে আম্পায়ারিংয়ের বহু নমুনাও দেখা গেছে। চলেছে নানা রকম বিতর্ক। ফাইনালে ধর্মসেনার ভুলের কারণে শিরোপাবঞ্চিত হয়েছিল নিউজিল্যান্ড।

মোহাম্মদ মূসার নো বল; Image Source: ndtv

২০১৯ সালেএ অ্যাশেজ সিরিজের প্রথম টেস্টেও দেখা গেছে ভুলে ভরা আম্পায়ারিং। দুই আম্পায়ার আলিম দার ও জো উইলসন মিলে ১৫টি ভুল সিদ্ধান্ত দিয়েছেন। তাছাড়া পাকিস্তান ও অস্ট্রেলিয়ার গাব্বা টেস্টের ২য় দিনের প্রথম দুই সেশনে ২১টি নো বল হয়েছিল যা একটিও অন ফিল্ড আম্পায়ারের দৃষ্টিতে পড়েনি। তাই খেলাটিকে আরেকটু নির্ভুল করতে এ উদ্যোগ নিয়েছে আইসিসি।

Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More in ক্রিকেট