Connect with us

ক্রিকেট

পেশাদার ফুটবল খেলা বিখ্যাত ক্রিকেটারদের গল্প

Credit: Getty Images

দেশের জার্সিতে ক্রিকেট খেলা অত্যন্ত গৌরবের। কিন্তু কেউ যদি একই সাথে ফুটবল ও ক্রিকেট খেলার কথা ভাবেন তাহলে তাকে অবশ্যই অসামান্য প্রতিভার অধিকারী হতে হবে। ক্রিকেট ইতিহাসে পেশাদার ফুটবলার খেলা খেলোয়াড়ের সংখ্যা একেবারে বিরল নয়। বেশ কয়েকজন বিখ্যাত ক্রিকেটার রয়েছেন যারা পেশাদার ফুটবল ছেড়ে ক্রিকেটে নাম লিখিয়েছেন৷ অথবা তারা উভয় খেলাই খেলেছেন। চলুন তাদের সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক।

ভিভ রিচার্ডস

স্যার ভিভ রিচার্ডস ফুটবল কেন ছেড়েছিলেন সে সম্পর্কে খুব বেশি জানা যায়নি। কিন্তু ক্রিকেটারদের মধ্যে তিনি এক বিরল রেকর্ডের মালিক। তিনি ক্রিকেট বিশ্বকাপ খেলার পাশাপাশি নিজ দেশ অ্যান্টিগুয়া অ্যান্ড বারবুদার হয়ে ফুটবল বিশ্বকাপের বাছাই পর্ব খেলেছেন।

ভিভ রিচার্ডস; Image Source: skysports.com

ক্যারিবিয়ান কিংবদন্তি তার ক্রিকেট ক্যারিয়ারে মোট দুইবার বিশ্বকাপ জিতেছেন। পাশাপাশি ১৯৭৪ সালে বিশ্বকাপের বাছাইপর্বে দেশের হয়ে মাঠে নেমেছিলেন। কিন্তু ত্রিনিদাদ অ্যান্ড টোবাগোর কাছে ১১-১ গোল এবং সুরিনামের কাছে ৬-০ গোলে বাছাইপর্ব থেকে তার দলকে বিদায় নিতে হয়।

ফুটবলে কোনো ভবিষ্যত না দেখে তিনি ক্রিকেটের প্রতি পুরোপুরি মনোযোগী হন। পরবর্তীতে তিনি তার অনবদ্য ব্যাটিং দিয়ে ক্রিকেটের রূপ বদলে দেন। টেস্ট ও ওডিআইতে তার ব্যাটিং গড় যথাক্রমে ৫০.২৩ এবং ৪৭। ক্রিকেটে থিতু হওয়ার পরপর ভিভ রিচার্ডস ফুটবলকে বিদায় বলে দেন।

ইয়ান বোথাম

ইয়ান বোথাম ইংল্যান্ডের ক্রিকেট ইতিহাসে সর্বকালের সেরাদের একজন। আশির দশকে ইংল্যান্ডের ক্রিকেট ভক্তদের কাছে তিনি আইকন ছিলেন। তার ভয়ডরহীন ক্রিকেট থ্রি লায়ন্সদের অসংখ্য সাফল্য এনে দিয়েছে। ক্রিকেট নিয়ে ইয়ান বোথামের অসংখ্য গল্প রয়েছে। সেই সাথে তার জীবনের একটা অংশে জড়িয়ে রয়েছে পেশাদার ফুটবল।

ফুটবলার ইয়ান বোথাম; Image Source: skysports.com

১৯৮০ সালের মার্চে স্কানথর্পে ইউনাইটেড নামে নিচের সারির এক ফুটবল ক্লাবের সাথে চুক্তিবদ্ধ হন বোথাম। এবং এই ক্লাবের তিনি ১১টি ম্যাচও খেলেছেন। তিনি মূলত সেন্টার ব্যাক হিসেবে খেলতে। অনেকের মতে বোথাম আরো বড় কোনো ক্লাবে খেলতে পারতেন। কিন্তু তিনি ক্রিকেট ও ফুটবলের মধ্যে থেকে ক্রিকেটকে বেছে নেন। ফলে ফুটবলে তার ইতি টানতে হয়। এরপরও অবশ্য ইয়োভিল টাউনের হয়ে ফুটবলে ফেরার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু সফল হতে পারেননি।

সিবি ফ্রাই

খেলাধুলার জগতে চার্লস বার্জেস ফ্রাইকে সবচেয়ে বহুমুখী বা বহু প্রতিভার অধিকারী বললে ভুল হবে না। তিনি শুধুমাত্র ক্রিকেট বা ফুটবল খেলেননি, সেই সাথে অ্যাথলেটিকস ও রাগবিও খেলেছেন। লং জাম্পে তিনি একবার বিশ্ব রেকর্ডও গড়েছিলেন। কিন্তু খেলোয়াড় হিসেবে যশ কামিয়েছেন ক্রিকেট খেলে।

সিবি ফ্রাই চাইলে এখানে থামতে পারতেন। কিন্তু তিনি খেলাধুলা ছাড়ার পর রাজনীতিতে নাম লেখান। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর লিগ অব নেশন্সে তার বন্ধু রঞ্জিত সিংহ তাকে সহকারি হিসেবে নিয়োগ দেন। এরপর তিনি যুক্তরাজ্যের লিবারেল ইউনাইটেডে যোগ দেন। কিন্তু তিনি তিনবার নির্বাচন করে একবারো জিততে পারেননি।

সিবি ফ্রাই; Image Source: ICC

সিবি ফ্রাই তার ক্যারিয়ারে ২৬টি টেস্ট খেলেছেন। তার বিপরীতে আন্তর্জাতিক ফুটবল ম্যাচ খেলেছেন মাত্র ১টি। তবে তার ফুটবল ক্যারিয়ারে বড় এক অর্জন সাউদাম্পটেন হয়ে ১৯০২ সালের এফএ কাপের ফাইনাল। ফাইনালে উঠার আগে তিনি সবগুলো ম্যাচে মাঠে নেমেছিলেন। কিন্তু ফাইনালে তার দল শেফিল্ড ইউনাইটেডের কাছে হেরে যায়৷ ফলে সিবি ফ্রাইয়ের আরো বড় ইতিহাস রচনা করা হয়নি।

এলিস পেরি

আগের দিনে একজন ফুটবলারের ক্রিকেটার বনে যাওয়া সহজ ছিল। কিন্তু বর্তমান সেটা প্রায় অসম্ভব। কিন্তু সেই অসম্ভবকেই সম্ভব করেছেন অস্ট্রেলিয়ার এলিস পেরি। ১৬ বছর বয়সে একই সাথে ফুটবল ও ক্রিকেটে অভিষেক হয় পেরির। এরপর তিনি দুই খেলায়ই সমতা রেখে তার ক্যারিয়ারকে এগিয়ে নিয়ে গেছেন।

অস্ট্রেলিয়ার নারী ক্রিকেট দলের হয়ে ৮টি টেস্ট, ১১০টি ওডিআই এবং ১১১টি টি টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেছেন পেরি। টেস্টে ডাবল সেঞ্চুরি সহ তার মোট রান ৪৭০০ এর বেশি। এছাড়া বল হাতে তিনি মোট ২৮৮টি উইকেট নিয়েছেন।

ক্রিকেটার এলিস পেরি; Image Source: Getty Images

ক্রিকেটের মতো ফুটবল ক্যারিয়ার সাফল্যমণ্ডিত নয়। সেন্টাল কোস্ট মেরিনারের হয়ে তিনি তার পেশাদার ফুটবল ক্যারিয়ার শুরু করেন। এরপর ২০০৯-১২ পর্যন্ত ক্যানবেরা ইউনাইটেডের হয়ে খেলেছেন। এরপর চার বছর সিডনি এফসির হয়ে খেলে ফুটবলকে বিদায় জানিয়েছেন।

ফুটবলার এলিস পেরি © Dean Lewins

তবে ক্লাবের পাশাপাশি জাতীয় দলের হয়েও তিনি ফুটবল খেলেছেন। এলিস পেরি অস্ট্রেলিয়ার নারী ক্রিকেট দলের হয়ে ওডিআই বিশ্বকাপ এবং টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জিতেছেন। খেলেছেন ২০১১ সালের নারী ফুটবল বিশ্বকাপও। সেখানে সুইডেনের বিপক্ষে তার অসাধারণ একটি গোল রয়েছে।

ডেনিশ কম্পটন

ইংল্যান্ডের সর্বকালের অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যান ডেনিশ কম্পটন। তিনি ইংল্যান্ডের গুটিকতক ব্যাটসম্যানদের মধ্যে একজন, যাদের টেস্টে ব্যাটিং গড় ৫০ এর অধিক। আইসিসি হল অব ফেমে স্থান পাওয়া মিডলসেক্সের সাবেক অধিনায়ক ক্রিকেট ইতিহাসে ২৫ জন খেলোয়াড়ের একজন, যাদের প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে শতাধিক সেঞ্চুরি রয়েছে।

ডেনিশ কম্পটন; Image Source: Arsenal FC

মিডলসেক্সের হয়ে ক্রিকেটে সাফল্য পাওয়ার পাশাপাশি আর্সেনালের হয়ে সফল ফুটবল ক্যারিয়ারও রয়েছে ডেনিশ কম্পবেলের। গানারদের হয়ে তিনি ১৯৪৭-৪৮ মৌসুমে লিগ শিরোপা জয়ের পর ১৯৫০ সালে এফএ কাপও জিতেছেন। কিন্তু দুর্ভাগ্যক্রমে তিনি ইংল্যান্ডের হয়ে কোনো আন্তর্জাতিক ফুটবল ম্যাচ খেলতে পারেননি। এর জন্য অবশ্য দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ দায়ী।

Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More in ক্রিকেট