Connect with us

ক্রিকেট

এলিসি পেরি: দ্য কুইন অব ক্রিকেট

ICC

২০১৭ সালের পর দ্বিতীয় বারের মতো ২০১৯ সালে আইসিসি নারী বর্ষসেরা ক্রিকেটার নির্বাচিত হয়ে র‌্যাচেল হেইহো ফ্লিন্ট পুরষ্কার জেতেন অস্ট্রলিয়ান অলরাউন্ডার এলিসি পেরি। টি-টোয়েন্টি ও ওডিআই র‍্যাংকিং এর শীর্ষ স্থানে থাকা পেরি নির্বাচিত হয়েছেন ওডিআই বর্ষসেরা ক্রিকেটারও। আছেন আইসিসি ঘোষিত বর্ষসেরা ওডিআই ও টি-টোয়েন্টি একাদশেও।

এলিসি পেরি; Image Source: getty image

থাকেন ই বা না কেন? বছরটা যে নিজের মতই সাজিয়ে নিয়েছেন তিনি। এলিসি পেরি নারী টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট ইতিহাসের প্রথম ক্রিকেটার যার ১০০০ রানের পাশাপাশি ১০০ উইকেট রয়েছে। তাছাড়া আন্তর্জাতিক নারী ওডিআই ক্রিকেটে এক ইনিংসে সর্বোচ্চ উইকেট শিকারের তকমাও আছে তার দখলে। এক ইনিংসে তার উইকেট সংখ্যা ৭টি। এক ইনিংসে ৭ উইকেট নেওয়ার রেকর্ড রয়েছে ৫ জনের। তারমধ্যে চতুর্থ স্থানে আছেন এই অজি ক্রিকেটার। এই বছরের(২০১৯) ৭ জুলাই ইংল্যান্ডের বিপক্ষে এই রেকর্ড করেন তিনি।

এলিসি পেরি; Image Source: Icc

এলিসি পেরি এই বছর টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেছেন ৯টি। ১৫০ গড়ে করেছেন ১৫০ রান। সর্বোচ্চ ইনিংস ছিল ৬০ রানের। বল হাতে নিয়েছেন ৬ উইকেট। যাতে গড় ছিল ২২.৩৩।ওডিআইতে খেলেছেন ১২ ম্যাচ। রান করেছেন ৪৪১। গড় ছিল ৭৩.৫। বল হাতে নিয়েছেন ২১ উইকেট। যাতে গড় ছিল ১৩.৫২। বেস্ট বোলিং ফিগার ২২ রানে ৭ উইকেট শিকার।

চলুন জেনে নেওয়া যাক এই বছরের তার কিছু অসাধারণ পারফরম্যান্স সম্পর্কেঃ

নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে অপরাজিত ১০৭ রান এবং ১৫ রান দিয়ে ১ উইকেট শিকার; ২য় ওডিআই; অ্যাডিল্যাড

সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে সফরকারী নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ক্যারিয়ারের প্রথম ওডিআই শতকের দেখা পান এলিসি পেরি। তার দুর্দান্ত শতকে ২৪৭ রানের সংগ্রহ পায় অজিরা। ১১০ বলে ৮ চার আর ৩ ছয়ে অপরাজিত থেকে ১০৭ রান করেন তিনি। জবাবে ব্যাট করতে নেমে ১৫২ রানে গুটিয়ে যায় কিউইরা।

এলিসি পেরি; Image Source: Icc

বল হাতেও দুর্দান্ত ছিলেন পেরি। সবচেয়ে কম খরুচে বোলার ছিলেন সে ইনিংসে। ৭ ওভার বল করে ২ ওভারই নেনে মেইডেন। ২.১৪ ইকনোমিতে ১৫ রান দিয়ে শিকার করেন ১ উইকেট। তার অলরাউন্ডিং নৈপুণ্যে সে ম্যাচের জয়ে ২-০ তে এগিয়ে গিয়ে সিরিজ নিশ্চিত করে স্বাগতিকরা।

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ২২ রান দিয়ে ৭ উইকেট শিকার; তৃতীয় ম্যাচ; অ্যাশেজ সিরিজ; ক্যান্টারব্যুরি।

সিরিজের প্রথম ম্যাচে ৩ উইকেট, দ্বিতীয় ম্যাচে ৬২ রানের ইনিংস, তৃতীয় ম্যাচে রেকর্ড সংখ্যাক উইমেট শিকার। সব মিলিয়ে ইংলিশদের নিজেদের দেশের মাটিতে হোয়াইট ওয়াশ করার অন্যতম কারিগর ছিলেন এলিসি পেরি। সিরিজের শেষ ম্যাচে তার অগ্নি ঝরা বোলিংয়ে মাত্র ৭৫ রানেই অলআউট হয়ে যায় স্বাগতিকরা।

এলিসি পেরি; Image Source: Icc

তাদের টপ অর্ডারের চার ব্যাটসম্যানকে একাই সাঝ ঘরে ফেরান পেরি। ১০ ওভার বল কে ৪৯ বলই দিয়েছেন ডট। ছিল ৪ ওভার মেইডেন। ২.২০ ইকোনমিতে বল করে ২২ রান দিয়ে নিয়েছেন ৭ উইকেট। ম্যাচটি ১৯৪ রানের বিশাল ব্যবধানে জয় লাভ করে তারা।

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ১১৬ ও অপরাজিত ৭৬ রান এবং ৪৪ রানে ১ উইকেট শিকার; একমাত্র অ্যাশেজ টেস্ট; টন্টন

টন্টনে একমাত্র টেস্ট ম্যাচটির প্রথম ইনিংসে অ্যাশেজ ইতিহাসের চতুর্থ নারী ক্রিকেটার হিসেবে ব্যাক টু ব্যাক সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন পেরি। ম্যাচটিতে আগে ব্যাটিং করে নেমে অ্যালিশা হিলির উইকেট পতনের পর মাঠে নামেন পেরি এবং ক্যারিয়ারের ২য় টেস্ট সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন। মেগ ল্যানিংয়ের সাথে তৃতীয় উইকেটে ৬৯ রানের জুটি গড়েন।

এলিসি পেরি; Image Source: icc

ল্যানিংয়ের উইকেট পতনের পর ১৬২ রানের জুটি গড়েন রসিয়েল হাইনেসের সাথে। এরপর ২৮১ বলে ১১৬ রানে আউট হয়ে যান তিনি। সে ইনিংস ৪২০ রানে ডিক্লেয়ার ঘোষণা করে অজি অধিনায়ক। বল হাতে ১৩ ওভারে ৪৪ রান দিয়ে ১ উইকেট শিকার করেন তিনি। নিজেদের শেষ ইনিংসেও অর্ধশতক তুলে নেন পেরি। অপরাজিত থাকেন ৭৬ রানে। যদিও ম্যাচটি শেষ পর্যন্ত ড্র হয়।

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ৪৭ রান ও ১৭ রানে ১ উইকেট শিকার; দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি; অ্যাশেজ সিরিজ; হোভ

অধিনায়ক মেগ ল্যানিংয়ের অপরাজিত ১৩৩ রানের ইনিংসে সিরিজের প্রথম টি-টোয়েন্টি ম্যাচ জয় লাভ করে অজিরা। হোভে সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে আগে ব্যাট করে ৮ উইকেটে ১২১ রান সংগ্রহ করে স্বাগতিকরা। বল হাতে ২ ওভারে ১৭ রান দিয়ে ১ উইকেট শিকার করেন পেরি।

এলিসি পেরি; Image Source: Icc

জবাবে ব্যাট করতে নেমে ৩৫ রানে তিন উইকেট হারিয়ে বিপাকে পরা অজিদের জয়ের ধারায় ফিরিয়ে আনেন পেরি। অধিনায়ক মেগের সাথে ৮৭ রানের জুটি গড়ে দলকে জয় উপহার দেন তিনি। ৩৯ বলে অপরাজিত থেকে ৪টি বাউন্ডারি ও ১টি ওভার বাউন্ডারি হাকিয়ে ৪৭ রান করেন পেরি। সে সিরিজের তিন ফরমেটে ৩৭৮ রানের পাশাপাশি ১৫ উইকেট শিকার করেন এলিসি পেরি।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ১১২ রান এবং ৫ রানে ১ উইকেট; দ্বিতীয় ওডিআই; অ্যান্টিগুয়া

হিলি ও ল্যানিংয়ের জোড়া শতক ও পেরির অপরাজিত ৩৩ রানের ইনিংসের পাশাপাশি বল হাতে ৩ উইকেট শিকারে সিরিজের প্রথম ম্যাচে স্বাগতিক ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ১৭৮ রানের বিশাল ব্যবধানে জয় তুলে নেয় অজিরা। দ্বিতীয় ম্যাচে এসে ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় ওডিআই শতক তুলে নেন পেরি।

এলিসি পেরি; Image Source: Icc

১১৮ বলে ৯ চারে অপরাজিত থাকেন ১১২ রানে। বল হাতে ৩ ওভারে ৫ রান দিয়ে তুলে নেন ১ উইকেট। তার অলরাউন্ডিং পারফরম্যান্সে আরেকটি সিরিজ জয় নিশ্চিত করে অজিরা। সিরিজের তৃতীয় ম্যাচটিও অজিরা জয় লাভ করে। সে সিরিজের সব কয়টি ম্যাচই অপরাজিত ছিলেন পেরি। ১৭৮ রান ও ৫ উইকেট শিকার করে প্লেয়ার অব দ্য সিরিজ পুরষ্কারও জেতেন।

Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More in ক্রিকেট