Connect with us

ক্রিকেট

অধিনায়কদের কোচ হওয়ার গল্প

Credit: espncricinfo

পাকিস্তান জাতীয় দলের নতুন কোচ হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন সাবেক অধিনায়ক মিসবাহ-উল-হক। একইসঙ্গে তাকে প্রধান নির্বাচকের দায়িত্বও দিয়েছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। সাথে পাকিস্তানের বোলিং কোচ হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন সাবেক অধিনায়ক ও কোচ ওয়াকার ইউনুস। দুজনের চুক্তির মেয়াদ তিন বছর।

Image Source: espn

শুরুতে শুধু কোচ হিসেবে বাছাই করলেও পরে প্রধান নির্বাচক হিসেবেও বেছে নেওয়া হয় মিসবাহকে। এখন থেকে তিনি দেশটির ছয়টি ফার্স্ট-ক্লাস ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের হেড কোচদের নিয়ে গঠিত নির্বাচক কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। শুধু এই দুইজনই নয় এর আগেও এমন অনেক অধিনায়ক ছিলেন যারা ক্যারিয়ার শেষে কোচিং ক্যারিয়ারকে বেছে নিয়েছেন।

চলুন জেনে নেওয়া যাক এমন কিছু কোচ সম্পর্কে।

অ্যান্ডি ফ্লাওয়ার

জিম্বাবুয়ের ক্রিকেট ইতিহাসে অন্যতম সফল উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান অ্যান্ডি ফ্লাওয়ার। জিম্বাবুয়ের হয়ে তিনি ৬৩টি টেস্ট ম্যাচ ও ২১৩টি ওয়ানডে ম্যাচ খেলেন। দুই ফরম্যাটে রয়েছে ১০ হাজারের বেশি রান। টেস্ট ৬৩ ম্যাচে করেছেন ৪৭৯৪ রান, সর্বোচ্চ রানের ইনিং অপরাজিত ২৩২ রান। ব্যাটিং গড় ছিল ৫১.৫৪। শতক রয়েছে ১২টি এবং অর্ধশতক ২৭টি।

অ্যান্ডি ফ্লাওয়ার; Image Source: espncricinfo

ওডিআইতে খেলেছেন ২১৩ ম্যাচ। ব্যাট হাতে মোট সংগ্রহ ৬৭৮৬ রান। সর্বোচ্চ রানের ইনিংস ছিল ১৪৫ রানের। শতক ছিল ৪টি ও অর্ধশতক ৫৫টি। দায়িত্ব পালন করেছেন অধিনায়কেরও। অধিনায়ক হিসেবে ৫২টি ওডিআই ম্যাচের মধ্যে জয় পেয়েছেন ১২টি আর ২০ টেস্টের ১টিতে জয় ও ৯ ম্যাচ ড্র করেছেন। ইসিবির সঙ্গে ফ্লাওয়ার প্রথম যুক্ত হন ২০০৭ সালে প্রধান কোচ পিটার মুরের সহকারী হিসেবে। দুই বছর পর এই জিম্বাবুইয়ান পান প্রধান কোচের দায়িত্ব।

অ্যান্ডি ফ্লাওয়ার ও কেভিন পিটারসন; Image Source: espncricinfo

ফ্লাওয়ারের কোচিংয়ে ইংল্যান্ড পেয়েছিল অনেক বড় বড় সাফল্য। তার অধীনে ইংলিশরা প্রথমবার জিতেছিল আইসিসির কোনও টুর্নামেন্ট। ২০১০ সালে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জেতার পরের বছরে ১৯৮৬-৮৭ মৌসুমের অ্যাশেজের পর প্রথমবার অস্ট্রেলিয়ার মাটি থেকে মর্যাদার সিরিজ জেতার কীর্তি গড়েছিল ইংল্যান্ড। তাছাড়া নিজ দেশের মাটিতেও অ্যাশেজ জয় করে।

Image Source: espncricinfo

তার অধীনে ২০১১ সালে ভারতকে ৪-০ ব্যবধানে হারিয়ে টেস্ট র‍্যাংকিং এর শীর্ষ স্থান দখল করে নেয় ইংলিশরা। ১৮ মাসের ব্যবধানে ২-১ ব্যবধানে আরেকটি সিরিজ জয় লাভ করে তারা। ২০১৩-১৪ মৌসুমের অ্যাশেজে ভরাডুবির পর কোচের পদ থেকে সরে দাঁড়িয়ে নেন ‘টেকনিক্যাল ডিরেক্টর অব এলিট ক্রিকেট’-এর দায়িত্ব।

জন রাইট

জন রাইট হলেন নিউজিল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক ও ব্যাটসম্যান। কিউইদের তিনি ১৪টি টেস্ট ও ৩১টি ওডিআই ম্যাচে নেতৃত্ব দেন। তার অধীনে টেস্টে ৩ জয়, ৩ পরাজয় আর ৪ ড্রয়ের পাশাপাশি ওডিআইতে ১৬টি ম্যাচে জয় ও ১৫ ম্যাচে পরাজিত হয় কিউইরা। টেস্টে ৮২ ম্যাচ খেলে ৫৩৩৪ রান করেন রাইট। আর ওডিআইতে ১৪৯ ম্যাচে করেন ৩৮৯১ রান।

জন রাইট; Image Source: espncricinfo

১৯৯৩ সালে রাইট ক্রিকেটকে বিদায় জানান। এর ২ বছর পর কাউন্টি ক্রিকেটে কোচের দায়িত্ব নেন। ২০০০ সালে হেড কোচ হিসেবে দায়িত্ব পান ভারত জাতীয় দলের। তিনি ছিলেন ভারতের প্রথম বিদেশি কোচ। ২০০৫ সাল পর্যন্ত ভারতের দায়িত্ব পালন করেন তিনি। কোচ হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার পরই তিনি ভারতকে সফলতার মুখ দেখান।

সৌরভ গাঙ্গুলি ও জন রাইট; Image Source: espncricinfo

দায়িত্ব গ্রহনের ১ বছরের মাথায় দেশের মাটিতে টেস্টে অস্ট্রেলিয়াকে ২-১ ব্যবধানে পরাজিত করে সিরিজ জয় লাভ করে ভারত। সে সিরিজের অন্যতম একটি ম্যাচে কলকাতায় ফলঅনে পড়েও জয় লাভ করে ভারত। ২০০২ সালে ন্যাট সিরিজের ফাইনালে ইংল্যান্ডকে হারায় তার শিষ্যরা। ২০০৩ সালের বিশ্বকাপের ফাইনালে খেলে ভারত। যদিও অজিদের কাছে হেরে শিরোপা জেতার সুযোগ হারায়।

শচীন টেন্ডুলকার ও জন রাইট; Iamge Source: espncricinfo

২০০৪ সালে পাকিস্তান সফরে গিয়ে টেস্ট ও ওডিআই সিরিজ জেতার ইতিহাস গড়ে। ২০০৫ সালে ভারতের সাথে চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে পুনরায় চুক্তিবদ্ধ হতে রাজি হননি তিনি। এরপর ২০১০ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত নিউজিল্যান্ডের দায়িত্বে থাকেন তিনি। এছাড়া আইপিএলে ২০১৩ সালে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের দায়িত্ব গ্রহণ করে শিরোপা জেতান।

গ্রেগ চ্যাপেল

অস্ট্রেলিয়ান কিংবদন্তি ক্রিকেটার ও সাবেক অধিনায়ক গ্রেগ চ্যাপেল ১৯৭০ থেকে ৮৪ পর্যন্ত অজিদের হয়ে ৮৭টি টেস্ট ও ৭৪টি ওডিআই ম্যাচ খেলেন তিনি। ৫৩.৮৬ গড়ে করেছেন ৭১১০ টেস্ট রান আর ওডিআইতে ৪০.১৮ গড়ে করেছেন ২৩৩১ রান। ৪৮টি টেস্টে অধিনায়কত্ব করেন যার মধ্যে অজিরা ২১ ম্যাচ জয় লাভ করে। বিপরীতে ১৩ ম্যাচে পরাজিত হয়, ড্র হয়েছে ১৪টি ম্যাচ।

গ্রেগ চ্যাপেল; Image Source: espncricinfo

ওডিআইতে তিনি ১১টি ম্যাচে অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেন। সে সময়ে অজিরা ৬টি ম্যাচ জয় লাভ করে আর ৫ ম্যাচ পরাজিত হয়। বলা যায় একজন সফল অধিনায়ক ছিলেন তিনি। ২০০৫ সালে তিনি দুই বছরের চুক্তিতে ভারতের দায়িত্ব নেন।

সৌরভ গাঙ্গুলি ও গ্রেগ চ্যাপেল; Image Source: espncricinfo

কিন্তু ২০০৭ সালের বিশ্বকাপে দলের খারাপ পারফরম্যান্স ও গ্রুপ পর্ব থেকে বাদ পড়ায় চাকরি হারান তিনি। তাছাড়া খেলোয়াড়দের সাথে ও তার সম্পর্কের অবনতি ঘটে। ভারতের কোচিং ক্যারিয়ার শেষে ২০১০ সালে নিজ দেশের হয়ে কাজ করার সুযোগ পান চ্যাপেল। প্রধান নির্বাচক হিসেবে কাজ করেন ২০১১ সাল পর্যন্ত।

অনিল কুম্বলে

অনিল কুম্বলে ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম সফল স্পিনার। টেস্ট ইতিহাসের তৃতীয় এবং ওডিআইয়ের দশম সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি বোলার তিনি। কুম্বলে ভারতের হয়ে ১৩২টি টেস্ট ম্যাচ খেলেছেন। যাতে বল হাতে নিয়েছেন ৬১৯টি উইকেট। ব্যাট হাতে করেছেন ২৫০৬ রান। ওডিআইতে ২৭১টি ম্যাচ খেলেছেন তিনি। উইকেট শিকার করেছেন ৩৩৭টি।

অনিল কুম্বলে; Image Source: indiatoday

অনিল কুম্বলে ভারতের হয়ে টেস্ট ও ওডিআইতে অধিনায়কত্বও করেছেন। টেস্টে তার অধীনে ভারত ১৪টি ম্যাচ খেলেছে। তার মধ্যে ৩ ম্যাচ জয় লাভ করেছে। হেরেছে ৫ ম্যাচে এবং ৬ ম্যাচ ড্র করেছে। ওডিআইতে ১ ম্যাচে অধিনায়কত্ব করার সুযোগ পান তিনি। এবং সে ম্যাচে জয়ের দেখা পায় ভারত। ২০১৬ সালের জুনে কুম্বলে নিজ দেশের কোচ হওয়ার সুযোগ পান। দায়িত্বভার গ্রহণ করেই ভারতকে সিরিজ জেতান তিনি।

বিরাট কোহলি ও অনিল কুম্বলে; Image Source: espncricinfo

বিদেশের মাটিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজ জয়, দেশের মাটিতে নিউজিল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ডকেও হারায় তার দল। তারপরও বেশি দিন কোচের দায়িত্বে থাকতে পারেননি তিনি। এক বছরের মাথায় ২০১৭ সালে চ্যাম্পিয়নস ট্রফির ফাইনালে পাকিস্তানের বিপক্ষে হারের পর দ্বায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ান অনিল কুম্বলে।

ওয়াকার ইউনুস

পাকিস্তানের অন্যতম সেরা পেস বোলার ছিলেন ওয়াকার ইউনুস। টেস্টে ও ওডিআইতে পাকিস্তান দলের হয়ে নিয়মিত সদস্য ছিলেন তিনি। পালন করেছেন অধিনায়কের দায়িত্বও। ৮৭ টেস্টে ৩৭৩ উইকেট ও ওডিআইতে ২৬২ ম্যাচে ৪১৬ উইকেট শিকার করেছেন তিনি। ২০০৩ বিশ্বকাপে পাকিস্তানের নেতৃত্বভার তার হাতে ন্যস্ত ছিল।

ওয়াকার ইউনুস; Image Source: timesnow

২০০৬ থেকে ২০০৭ সালের মধ্যে পাকিস্তান জাতীয় দলের বোলিং কোচের দায়িত্ব পালন করেন। এরপর ৩ মার্চ, ২০১০ সালে পাকিস্তান দলের হেড কোচের দায়িত্ব পালন করেন। ২০১১ বিশ্বকাপে তিনি কোচ থাকাকালীন সময়ে পাকিস্তান দল সেমিফাইলাল পর্যন্ত খেলে। সেমিফাইনালে ভারতের কাছে হারের পর তার মাসখানেক পর ১৯ আগস্ট ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে কোচের পদ থেকে সরে দাঁড়ান।

ওয়াকার ইউনুস; Image Source: espncricinfo

২০১৪ সালে তিনি আবার পাকিস্তানের কোচের দায়িত্ব নেন। ২০১৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্ব থেকে পাকিস্তান বাদ হয়ে গেলে তিনি আবারও তার চাকরি থেকে হারান। বর্তমানে তিনি পাকিস্তানের বোলিং কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More in ক্রিকেট