Connect with us

অন্যান্য

মাদ্রিদ ওপেন: ইতিহাস, ঐতিহ্য এবং আধুনিকায়নে সময়ের সেরা মাস্টার্স টুর্নামেন্ট

টেনিসের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রণ সংস্থা এটিপি নিয়ন্ত্রিত এ প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করতে পারেন বিশ্বের যে কোনো দেশের পেশাদার টেনিস খেলোয়াড়রা। উন্মুক্ত টেনিস যুগের শুরুতে যে কয়টি মাস্টার্স ওপেন আয়োজন শুরু হয়, তাদের মধ্যে মাদ্রিদ ওপেন সবচেয়ে ব্যয়বহুল ও টেনিস খেলোয়াড়দের কাছেও বেশ গ্রহণযোগ্য একটি টেনিস প্রতিযোগিতা।

টেনিস কোর্টের ছবি; Image source: Atp

মাদ্রিদ ওপেনের ইতিহাস তেমন পুরোনো নয়। ১৯৮৮ সালে অস্ট্রেলিয়ায় মেলবোর্ন পার্ক প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর স্প্যানিশ টেনিস এসোসিয়েশন মাদ্রিদে টেনিস প্রতিযোগিতা আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেয়। স্পেন কর্তৃপক্ষের এমন আহ্বানে সাড়া দিয়ে মাদ্রিদে নতুন করে টেনিস মাস্টার্স ওপেন আয়োজনে সম্মত হয় এটিপি। তবে স্প্যানিশ টেনিস এসোসিয়েশনের প্রস্তাবের বিপরীতে এটিপি তাদের টেনিস সেন্টার তৈরির শর্ত দেয়। এটিপির শর্ত পূরণে কাজে নেমে পড়ে স্প্যানিশ টেনিস এসোসিয়েশন। তিলে তিলে প্রতিষ্ঠিত হয় মাদ্রিদ এরেনা।

মাদ্রিদ ওপেন; Image Source: mutuaMadridOpen

মাদ্রিদ ওপেন প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত মাদ্রিদ এরেনায় আয়োজিত হয়েছিল। তখন মাদ্রিদ ওপেন অনুষ্ঠিত হতো শুধুমাত্র হার্ড কোর্টে। পরবর্তীতে এটিপির নির্দেশনায় মাদ্রিদ ওপেনের স্থান পরিবর্তন করা হয়। ২০০৯ সাল থেকে এখন অবধি মাদ্রিদ ওপেন আয়োজিত হচ্ছে কাজা ম্যাগিকা টেনিস সেন্টারে, যা স্থানীয়দের কাছে মানজানারেস পার্ক টেনিস সেন্টার নামে পরিচিত।

মাদ্রিদ ওপেনের কোর্ট; Image Source: Priceless.com

অতঃপর ২০০৯ সালে হার্ড কোর্টকে  লাল ক্লে কোর্টে পরিণত করে আয়োজন করা হয় মাদ্রিদ ওপেন। এভাবেই টেনিস বিশ্বের তৃতীয় ক্লে কোর্ট প্রতিযোগিতার মর্যাদা পায় মাদ্রিদ ওপেন। চলুন জেনে নেয়া যাক মাদ্রিদ এরেনা সহ মাদ্রিদ ওপেনের গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিষয় সম্পর্কে।

মাদ্রিদ এরেনা

টেনিসের তৃতীয় ক্লে কোর্ট প্রতিযোগিতা মাদ্রিদ ওপেনের অগ্রযাত্রা শুরু হয় এ শতাব্দীর শুরুতে, ২০০২ সালে স্পেনের মাদ্রিদে। মাদ্রিদের প্রাণকেন্দ্রে টেনিসের নিয়ন্ত্রণ সংস্থা এটিপির নির্দেশনায় ২০০২ সালের ফেব্রুয়ারিতে নির্মাণকাজ শুরু হয় টেলিফোনিকা এরেনা, যা বর্তমানে ‘মাদ্রিদ এরেনা’ নামে পরিচিত। স্পেন ২০১২ সালের অলিম্পিক আয়োজনের প্রস্তাব দেয়ার ফলশ্রুতিতে স্প্যানিশ ক্রীড়া কর্তৃপক্ষ ও টেনিস ফেডারেশন সম্মিলিতভাবে টেনিস ও বাস্কেটবলের জন্য স্টেডিয়ামটি নির্মাণে সম্মত হয়।

মাদ্রিদ এরেনা; Image Source: Linak.com

২০০২ সালের জুলাইয়ে ৫৭ মিলিয়ন ইউরো ব্যয়ে শেষ হয় ১২,০০০ দর্শক ধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন মাদ্রিদ এরেনার নির্মাণকাজ। বাস্কেটবল ও টেনিসের জন্য উপযুক্ত আলাদা সার্ফেস বসানো হয় ২১,০০ বর্গমিটার সমতলে। ২০০২ সালের মাদ্রিদ ওপেন আয়োজনের মধ্য দিয়ে উদ্বোধন করা হয় স্পেনের সবচেয়ে বড় ইনডোর স্টেডিয়ামটি। অতঃপর ২০০৮ সাল পর্যন্ত প্রতি বছর স্টেডিয়ামটিতে অনুষ্ঠিত হয় মাদ্রিদ ওপেন।

মাদ্রিদ এরেনার টেনিস কোর্ট; Image Source: Linak.com

তবে স্পেনের অলিম্পিক আয়োজনের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যাত হওয়ার পর টেনিস ফেডারেশনের সাথে বাস্কেটবল ফেডারেশনের মতপার্থক্য তৈরি হয়। যার কারণে রয়্যাল স্প্যানিশ টেনিস ফেডারেশন নতুন করে স্টেডিয়াম তৈরির কাজ শুরু করে। অন্যদিকে আন্তর্জাতিক টেনিস ফেডারেশন মাদ্রিদ ওপেনকে হার্ড কোর্ট থেকে ক্লে কোর্টে রূপান্তরের নির্দেশ দেয়।

কাজা ম্যাগিকা

স্পেনের  অলিম্পিক আয়োজনের প্রস্তাব নাকোচ হওয়ার পর রয়্যাল স্প্যানিশ টেনিস ফেডারেশন ২০০৬ সালে মাদ্রিদের সান ফার্মিনে নতুন টেনিস স্টেডিয়াম তৈরির কাজ শুরু করে। এটিপির পক্ষ থেকে ক্লে কোর্টের আউটডোর স্টেডিয়াম তৈরির নির্দেশনা পাওয়ার পর ২০০৮ সালে মাদ্রিদ ওপেনের জন্য তৈরি নতুন স্টেডিয়াম কাজা ম্যাগিকা উদ্বোধন করা হয়।

কাজা ম্যাগিকা; Image Source: priceless.com

২০০৯ সালের মাদ্রিদ ওপেন অনুষ্ঠিত হয় কাজা ম্যাগিকায় ক্লে কোর্টে। ১৪,৪০০ জন দর্শক ধারণক্ষমতাসম্পন্ন স্টেডিয়ামটি নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ৩০০ মিলিয়ন ইউরো। এরপর একাধিকবার এই স্টেডিয়ামের সংস্কার করা হয়েছে।

নীল ক্লে কোর্ট

প্রথমবারের মতো টেনিস ইতিহাসে  নীল ক্লে কোর্টে কোনো প্রতিযোগিতামূলক টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত হয় ২০১২ সালে, মাদ্রিদ ওপেনে। টেনিস বিশ্বকে অবাক করে দিয়ে মাদ্রিদ ওপেনের দশম বর্ষপূর্তি উৎযাপন করতেই মূলত নীল ক্লে কোর্টে আয়োজন করা হয় টুর্নামেন্টটি।

সময়সূচী

২০০৯ সাল থেকে আজ অবধি ক্লে কোর্টে অনুষ্ঠিত হচ্ছে মাদ্রিদ ওপেন টেনিস মাস্টার্স। তখন থেকে আয়োজনের সময়েরও পরিবর্তন এসেছে একাধিকবার। জুলাইয়ের পরিবর্তে মে মাসে নিয়ে আসা হয় মাদ্রিদ ওপেনের সময়সূচী।

প্রাইজমানি

প্রতিটি টেনিস টুর্নামেন্টের মতো মাদ্রিদ ওপেনেও বিশাল অঙ্কের প্রাইজ মানির ব্যবস্থা রয়েছে। পেশাদার টেনিসের প্রাইজ মানি বা অর্থ পুরষ্কার দেয়া হয় মূলত প্রতিটি একক খেলার ফলাফলের ভিত্তিতে।

মাদ্রিদ ওপেনের ট্রফি; Image Source: TennisWorld

একইভাবে মাদ্রিদ ওপেনেও প্রাইজ মানি প্রদান করা হয় খেলোয়াড়দের প্রতিটি খেলার পারফরম্যান্স ও জয় পরাজয়ের উপর ভিত্তি করে। মাদ্রিদ ওপেনে পুরুষ এককের শিরোপা জয়ী খেলোয়াড়ের প্রাইজ মানি ৬,২০০,৮৬০ ইউরো এবং নারী এককের প্রাইজ মানি ৬,০৪৫,৮৫৫ ইউরো।

রেকর্ড’স

১৭ বছর ধরে টেনিস বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম মাষ্টার্স টেনিস প্রতিযোগিতা মাদ্রিদ ওপেনেও প্রতিবছর প্রতিদ্বন্দ্বিতা  করেন টেনিস বিশ্বের প্রথম সারির তারকারা। পেশাদার টেনিসের সৌন্দর্য এখানেই নিহিত। তারকা খেলোয়াড়দের উপস্থিতিতে মাদ্রিদ ওপেনেও নিয়মিতই চলে আসছে রেকর্ড ভাঙ্গা গড়ার প্রতিযোগিতা।

রাফায়েল নাদাল; Image Source: TennisTour

১৭ বছরের মাদ্রিদ ওপেনের ইতিহাসে সর্বোচ্চ সংখ্যক শিরোপা জিতেছেন ক্লে কোর্টের রাজা,স্প্যানিশ টেনিস তারকা রাফায়েল নাদাল। বলতে গেলে মাদ্রিদ ওপেনের পুরুষ এককের সকল রেকর্ডই তার দখলে। নাদাল মাদ্রিদ ওপেনের ফাইনাল খেলেছেন ৮ বার ও শিরোপা জিতেছেন ৫ বার। অন্যদিকে নারী এককে সর্বোচ্চ সংখ্যক শিরোপা জিতেছেন পেত্রা কেভিতোভা। তিনি সর্বোচ্চ ৩ বার মাদ্রিদ ওপেনের শিরোপা জেতেন।

Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More in অন্যান্য