Connect with us

ক্রিকেট

আড়ালে দাঁড়িয়ে পাশে থাকার আশ্বাস দিলেন মাশরাফি

বিকেল চারটায় বিবিসি বাংলার ফেসবুক লাইভে প্রিয় দুই সাংবাদিকের কথা শুনতে শুনতে বুঝেছিলাম খারাপ কিছু ঘটতে চলেছে। সাকিব আল হাসানের ফিক্সিং বিষয়ে না জানানো নিয়ে আলোচনা চলছে শেরেবাংলা স্টেডিয়ামের সভাকক্ষে। ফেসবুকের পাতা স্ক্রল করতে করতে খেয়াল করলাম প্রায় সবগুলো চ্যানেলের সাংবাদিকরাই হোম অব ক্রিকেটে অপেক্ষা করছিলেন সাকিবের বিষয়ে আইসিসি কী জানায় সেটির জন্য। সবার প্রত্যাশা ছিলো বিসিবি থেকেই আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে পুরো বিষয়টি। কারণ বোর্ড সভায় স্বয়ং কর্তা নাজমুল হাসান পাপন উপস্থিত ছিলেন। আর এই অপেক্ষা বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যায় সমাপ্তি ঘটে।

Image Source: CricFeedia

রাজধানী ঢাকা সহ সারাদেশের কর্মব্যস্ত মানুষ যখন বাড়ি ফিরছিলেন সন্ধ্যার নিয়ন, সোডিয়ামের আলোয় ঠিক তখনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আইসিসি সাকিব আল হাসানকে ২ বছরের জন্য সবরকম ক্রিকেট থেকে নিষিদ্ধ করার ঘোষনা দেয়। কয়েক মিনিটের জন্য অবশ্যই থমকে গিয়েছিলো অপেক্ষমাণ মানুষগুলোর নিশ্বাস, অনুভূতি। মিরপুরের রাজপথে সাকিবিয়ানদের কান্নাকাটি আর মিছিলে সৃষ্টি হয়েছিলো অন্যরকম এক পরিবেশ।

স্বীকারোক্তি দিচ্ছেন সাকিব; Image Source: Daily Star

অতঃপর রাত ৮টায় বিসিবির কর্তাদের সঙ্গে দাঁড়িয়ে সংবাদসম্মেলনে নিজের ভুল স্বীকার করেন সাকিব। ফিক্সিংয়ের প্রস্তাব পেয়েও আইসিসিকে না জানানোর এই ভুলকে শুধরে ১ বছর পর মাঠে ফেরার বার্তাটুকুও পৌঁছে দেন সবার মাঝে। ঐ সংবাদসম্মেলনে কোনো এক সিনিয়র সাংবাদিককে কান্না করতেও দেখা যায় বিভিন্ন চ্যানেলের ফেসবুক লাইভে। হয়তোবা সারাদেশের মানুষের মতো তিনি কিংবা তারাও মেনে নিতে পারেননি ফিক্সিং না করেও সাকিবের এই শাস্তিটুকু। আইসিসির নিয়ম বলেই হয়তো কিছু করা বা বলা যাবে না। তবুও দিনশেষ দেশের সর্বস্তরের মানুষের, ক্রীড়াব্যক্তিত্ব, সাংবাদিক, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের সমর্থণ পেয়েছেন সাকিব।

মাশরাফির ফেসবুক স্টেটাস; Image Source: FB

সাকিবের এই খারাপ সময়ে অতিআবেগী একজনকে ফেসবুকে সমর্থণ দিতে দেখা গিয়েছে। তিনিও ৭ বার অস্ত্রোপচারের পর ক্রিকেট খেলা চালিয়ে যাওয়া আরেক যোদ্ধা যিনি সাকিবের সঙ্গে আমাদের ক্রিকেটের উন্নয়নে এবং এগিয়ে চলায় বড় রকমের অবদান রেখেছেন। অথচ মহান জাতীয় সংসদের সদস্য হওয়ার পর ক্রিকেট প্রেমিরাও তাকে ল্যাংড়া, লোভী বলে গালি দিয়েছিলো।

সাকিব এবং মাশরাফি; Image Source: Espn

আর এই ঘৃণার খাতিরে সাকিবের সঙ্গে তার তুলনা এবং বিতর্কিত বিভেদ সৃষ্টি করতে চেয়েছিল সবসময়। সেই সাথে তাকে নিয়ে জঘন্য জঘন্য মতামত দিয়েছিলো বাংলাদেশ ক্রিকেটের অধিকাংশ সমর্থকই। সবার চোখের বালি, সেই ব্যক্তি সাকিবকে সমর্থণ দিয়ে বললেন,” দীর্ঘ ১৩ বছরের সহযোদ্ধার আজকের ঘটনায় নিশ্চিতভাবেই কিছু বিনিদ্র রাত কাটবে আমার। তবে কিছুদিন পর এটা ভেবেও শান্তিতে ঘুমাতে পারব যে, তার নেতৃত্বেই ২০২৩ সালে আমরা বিশ্বকাপের ফাইনালে খেলব। কারণ নামটি তো সাকিব আল হাসান…!!!

সাকিব এবং মাশরাফি; Image Source: Daily Star

সাকিবের এই দুঃসংবাদ কথিত ল্যাংড়া মাশরাফিকে কতটুক ব্যাথা দিয়েছে তা এই কয়েক লাইন পড়েই বুঝা যায়। সতীর্থ, বন্ধু, বড়-ছোট ভাই হিসেবে তারা একে অপরের ব্যক্তিগত এবং পেশাদার জীবনে খুবই সৌহার্দপূর্ণ সম্পর্ক বরাবরই উপস্থাপন করেছেন। দেশের ক্রিকেটকে নিয়ে অনেক বড় স্বপ্ন দেখা মাশরাফি নিজের ব্যর্থতা মেনে নিয়ে সাকিবের উপরই ভরসা রেখেছিলেন। আর সেটি আজকে আরো একবার জানিয়ে দিলেন অতি আবেগী এবং হিপোক্রেট দেশী সমর্থকদের।

সাকিব এবং মাশরাফি; Image Source: ESPN

মাশরাফি নিজেও হিংস্র হয়ে ফেরা সাকিবকে নিয়ে বিশ্বকাপ জেতার স্বপ্ন দেখেন। সেখানে আমাদের এই হিপোক্রেসি অর্থহীন, অপমানজনক। মাশরাফির বিদায় বেলায় সকল ভক্তদের মতো আমরাও চাইবো না সাকিব হারিয়ে যাক। যেহেতু মাশরাফি দিগন্তের অন্ধকারে মিলিয়ে যেতে যেতে আলোর মশালটি সাকিবের হাতে দিয়েছেন আর আমাদেরকে সাকিবের ফেরার অপেক্ষায় থাকতে বলেছেন সেহেতু আমরা অপেক্ষা করি। দেশের ইতিহাসের সেরা দলনেতা যখন দেশের ইতিহাসের সেরা ক্রিকেটারের দুর্দান্ত ফিরে আশার ইঙ্গিত দিলেন সেহেতু আমরা ২০২৩ সাল নিয়ে নতুন করে স্বপ্ন দেখতেই পারি। আপনি ফিরে আসুন সাকিব, আমরা আপনার অপেক্ষায় রয়েছি।

Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More in ক্রিকেট