Connect with us

নিউজ

আফ্রিকার দামী ফুটবলার পরিচিতি

পেশাদারিত্বের সুবাদে পৃথিবীর প্রায় প্রত্যেক অঞ্চলের প্রতিভাবান ফুটবলাররা ক্যারিয়ারের কোনো না কোনো সময় ইউরোপে খেলেছেন। এক সময় এই তালিকায় লাতিন আমেরিকানরা সবার উপরে থাকলেও এখন আফ্রিকা মহাদেশের একটি বড় অংশের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। ইউরোপিয়ান ক্লাব ফুটবলের অতীত এবং বর্তমান ইতিহাস ঘাঁটলে আফ্রিকা অঞ্চলের কিছু সংখ্যক তারকা ফুটবলারের নাম খুঁজে পাওয়া যায়। তাদের পারফরম্যান্স এবং দলের প্রতি ডেডিকেশন ছিলো আর দশজন ইউরোপিয়ানদের থেকেও বেশি। তবে বেতন ভাতা কিংবা দলবদলে দরদামে আফ্রিকানরা লাতিন আমেরিকা এবং ইউরোপের ফুটবলারদের তুলনায় সস্তা। এটিকে কোনো কোনো ক্ষেত্রে বর্ণবৈষম্যও বলা যায়। তবে গত কয়েকবছরে আফ্রিকান ফুটবলারদের দাম উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। চলুন জানা যাক দলবদলের বাজারে কয়েকজন দামী আফ্রিকান ফুটবলার সম্পর্কে।

নেবি কেইতা (৫২ মিলিয়ন ইউরো)

গত মৌসুমে জার্মান জায়ান্ট লিপজিগ থেকে লিভারপুলে পাড়ি জমান গুইনিয়ান মিডফিল্ডার নেবি কেইতা। এর আগে জার্মানিতে কয়েক বছর খেলার সুবাদে বেশ সুনাম কুড়িয়েছেন তিনি। যার কারণে খুব অল্প বয়সে ইউরোপের বড় দলগুলোর নজরে পড়েন কেইতা।

নেবি কেইতা; Image Source: TalkSports

গত মৌসুমে লিভারপুলের চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয়ী দলের অন্যতম প্রধান সদস্য ছিলেন তিনি। যদিও ইনজুরির কারণে দীর্ঘ সময় মাঠের বাইরে থাকতে হয়েছিলো তাকে। গত মৌসুমে লিভারপুলে যোগ দিলেও লিপজিগের সঙ্গে লিভারপুলের চুক্তি সম্পন্ন হয়েছিলো তারও এক মৌসুম আগে। কোইতাকে দলে ভেড়াতে লিভারপুল খরচ করেছিলো প্রায় ৫২ মিলিয়ন ইউরো।

পিয়েরে এমেরিক অবামেয়াং (৫৬ মিলিয়ন ইউরো)

সময়ের সেরা স্ট্রাইকারদের মধ্যে গেবন জাতীয় দলের স্ট্রাইকার অবামেয়াং অন্যতম একজন। জার্মান জায়ান্ট বরুশিয়া ডর্টমুন্ডে যে কয় মৌসুম খেলেছেন প্রত্যেকবারই সফল হয়েছেন তিনি। জিতেছেন বুন্দেসলিগার সর্বোচ্চ গোলদাতার পুরস্কার। ফলশ্রুতিতে বেশ কয়েকবার বড় দলগুলোর নজরে পড়েন অবামেয়াং।

পিয়েরে এমেরিক অবামেয়াং; Image Source: Independent

গত বছরের জানুয়ারিতে বরুশিয়া ডর্টমুন্ড থেকে আর্সেনালে যোগ দেন তিনি। তাকে দলে নিতে আর্সেনাল খরচ করেছিলো প্রায় ৫৬ মিলিয়ন ইউরো। পরবর্তীতে নিজের নামের প্রতি সুবিচারও করেছেন আফ্রিকান এ তারকা। গত মৌসুমে যুগ্নভাবে প্রিমিয়ার লিগের সর্বোচ্চ গোলদাতা নির্বাচিত হন গেবন জাতীয় দলের অবামেয়াং।

রিয়াদ মাহরেজ (৬০ মিলিয়ন ইউরো)

লেস্টারের রূপকথার গল্পের কথা মনে পড়ে? মনে পড়ারই কথা। রানিয়েরির সেই লেস্টার সিটি সেবার প্রিমিয়ার লিগের শিরোপা জিতে বিশ্বকে অবাক করে দিয়েছিলো। আর সেই দলের অন্যতম প্রধান তারকা ছিলেন আফ্রিকার দেশ আলজেরিয়ার মিডফিল্ডার রিয়াদ মাহরেজ। জেমি ভার্ডির সঙ্গে জুটি গড়ে মাহরেজ লেস্টারের আক্রমণভাগকে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন সেবার।

রিয়াদ মাহরেজ; Image Source: MetroUk

লেস্টারের হয়ে অতিমানবীয় পারফরম্যান্স উপহার দেয়ায় বার্সেলোনা, ম্যানচেস্টার সিটির নজরে পড়েন মাহরেজ। পরবর্তীতে ম্যানসিটির ইতিহাসের সর্বোচ্চ দামী খেলোয়াড় হিসেবে ইতিহাদে পাড়ি জমান তিনি। গত মৌসুমে ম্যানচেস্টার সিটির লিগ শিরোপা জয়ে অসামান্য অবদান রেখেছিলেন মাহরেজ।

সেড্রিক বাক্যামবু (৬৫ মিলিয়ন ইউরো)

ফ্রান্সে জন্মগ্রহণ করেও শেকড়ের টানে নিজের পূর্বপুরুষের দেশ কঙ্গোর হয়ে খেলছেন সেড্রিক বাক্যামবু। গত বছর ৬৫ মিলিয়ন ইউরোর বিনিময়ে ভিয়ারিয়াল থেকে চীনের ক্লাব বেইজিং গৌয়্যানে যোগ দেন তিনি। আর সেখানে গিয়ে নিজের সামর্থ্যের প্রমাণও দিয়েছেন এই তারকা।

সেড্রিক বাক্যামবু; Image Source: Daily Star

গত মৌসুমে সবরকম প্রতিযোগিতায় ২৩টি গোল করেছেন বাক্যামবু। তিনি চাইলে হয়তো খেলতে পারতেন ফ্রান্সের হয়ে। তবুও নাড়ির টানে ফিরে গিয়েছিলেন সুদূর আফ্রিকায়। ক্যারিয়ার শেষে কঙ্গো তাকে রাষ্ট্রীয়ভাবে সম্মাননা দিবে বলেও গুঞ্জন রয়েছে।

নিকোলাস পেপে (৭২ মিলিয়ন ইউরো)

চলমান দলবদলে যে কয়জন ফুটবলারকে নিয়ে সবচেয়ে বেশি আলোচনা এবং সমালোচনা হয়েছে তাদের মধ্যে নিকোলাস পেপে অন্যতম। আফ্রিকার দেশ আইভরিকোস্টের এই উইঙ্গার লিলির হয়ে গতবার অসাধারণ একটি মৌসুম পার করেন। যার কারণে ইউরোপের বড় দলগুলোর নজরে ছিলেন পেপে।

নিকোলাস পেপে; Image Source: CapitalFm

একজন পরিপূর্ণ ফুটবলার হিসেবে এই যুগের দ্রগবা বলা হয় তাকে। আফ্রিকান না হয়ে ইউরোপিয়ান হলে হয়তো রিয়াল, বার্সা কিংবা লিভারপুলের মতো দলে খেলতে পারতেন নিকোলাস পেপে। গত সপ্তাহে লন্ডনের ক্লাব আর্সেনাল তাকে ৭২ মিলিয়ন ইউরোর বিনিময়ে দলে ভেড়ায়। আর এর মধ্যদিয়ে নিকোলাস পেপে আফ্রিকা অঞ্চলের সবচেয়ে দামী ফুটবলারের খেতাব পান।

Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More in নিউজ