Connect with us

ক্রিকেট

সাকিবের মতো ভুলে কপাল পুড়েছিল যাদের (পর্ব ২)

৭ এপ্রিল ২০০০ সাল; সে দিন ক্রিকেট বিশ্বকে নাড়িয়ে দিয়েছিল কিংবদন্তি ক্রিকেটার দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক অধিনায়ক হ্যানসি ক্রনিয়ের এক দুঃসংবাদ। স্পোর্টসম্যানসুলভ আচরণের জন্য যাকে অনেকেই বলতেন “ক্রিকেটের বিবেক”। অথচ তিনিই কিনা জড়িয়েছিলেন ম্যাচ ফিক্সিং কেলেঙ্কারিতে।

পত্রিকায় হ্যানসি ক্রিনিয়ের ফিক্সিংয়ের খবর; bleed

তদন্তে উঠে আসে ভয়ংকর সব তথ্য, ১৯৯৭-২০০০ পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে, বিভিন্ন ম্যাচে টাকার বিনিময়ে ইচ্ছে করে ম্যাচ হেরেছে হ্যান্সি ক্রোনিয়ের দল। ফিক্সিং কেলেংকারির তথ্য ফাস করার কিছু দিন পর প্লেন দূর্ঘটনার মৃত্যু হয় তার। যা আজও রহস্য হয়ে আছে। এছাড়া ২০০৭ বিশ্বকাপে পাকিস্তানের কোচ বব উলমারকে নিজের হোটেল রুমে রহ্যসজনক ভাবে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। ২০১১/১২ মৌসুমে ভারতের ঘরোয়া লিগের দুই ক্রিকেটার আত্নহত্যা করেন। টাইমস অফ ইন্ডিয়া মতে, তাদের এই পরিনতির কারন ম্যাচ ফিক্সিং।

হ্যানসি ক্রিনিয়ের মৃতদেহ; sarabangla

২০০০ সালে ক্রনিয়ের ফিক্সিং কেলেঙ্কারির পর দুর্নীতিরোধে ২০০৪ সালে বিশেষ একটি আইন করে বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইসিসি। এ আইনের আওতায় ফিক্সিংয়ের দ্বায়ে অন্তত ৪০ জন বিশ্ব বিখ্যাত ক্রিকেটার আন্তর্জাতিক ও ঘরোয়া ক্রিকেটে নিষিদ্ধ হয়েছেন।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিষিদ্ধ হওয়া ক্রিকেটারদের মধ্যে রয়েছেন পাকিস্তানের সেলিম মালিক। ১৯৯৪ সালে অস্ট্রেলিয়ার শেন ওয়ার্ন, টিম মে ও মার্ক ওয়াহকে ২০০০ সালে ঘুষ নেয়ার বিনিময়ে বাজে খেলার প্রস্তাব দিয়ে দোষী সাব্যস্ত হন। এ অপরাধে নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়েন তিনি। আইসিসি তাকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে আজীবনের জন্য নিষিদ্ধ করে। যদিও ২০০৮ সালে সে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার হয়।

আজহার উদ্দি, সালমান বাট, শেন ওয়ার্ন; sportingbd

জুয়াড়িদের সাথে লেনদেনের জন্য আজীবনের জন্য নিষিদ্ধ হন পাকিস্তানের আরেক ক্রিকেটার আতাউর রেহমান। অবশ্য এ ক্রিকেটারের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহর হয় ২০০৬ সালে। ভারতীয় ক্রিকেটের লিজেন্ড মোহাম্মদ আজহারউদ্দীনও ম্যাচ ফিক্সিংয়ের দায়ে বিসিআইসি কর্তৃক আজীবনের জন্য নিষিদ্ধ হন। পরে ২০১২ সালে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার হয় তার।

ভারতীয় আরেক ক্রিকেটার অজয় শর্মা জুয়াড়িদের সঙ্গে সংযুক্ত হওয়ার দায়ে দোষী সাব্যস্ত হয়ে আজীবনের জন্য নিষিদ্ধ হন। ভারতেরই আরেক ক্রিকেটার মনোজ প্রভাকর নিষিদ্ধ হন ৫ বছরের জন্য। জুয়াড়িদের সাথে সংযুক্ত হওয়ার অভিযোগে অজয় জাদেজাও নিষিদ্ধ হন। তাকে নিষিদ্ধ করা হয় ৫ বছরের জন্য। পরে ২০০৩ সালে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার হয় জাদেজার।

হার্শেল গিবস; ndtvsports

দক্ষিণ আফ্রিকার ক্রিকেটার হার্শেল গিবস নিষিদ্ধ হন ৬ মাসের জন্য। দক্ষিণ আফ্রিকার আরেক ক্রিকেটার হেনরি উইলিয়ামসও জুয়াড়িদের কাছ থেকে অর্থ নেয়ার জন্য ৬ মাসের জন্য নিষিদ্ধ হন। কেনিয়ার ক্রিকেটার মরিস ওদুম্বে জুয়াড়িদের কাছ থেকে অর্থ নেয়ার জন্য ৫ বছরের জন্য নিষিদ্ধ হন।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের ক্রিকেটাররাও জুয়াড়িদের সঙ্গে তথ্য লেনদেনের অভিযোগে পড়েছেন নিষেধাজ্ঞার কবলে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের ক্রিকেটার মারলন স্যামুয়েলস দলের তথ্য জুয়াড়িদের কাছে পাচার করার দায়ে ২ বছরের জন্য নিষিদ্ধ হন।

পাকিস্তানের ক্রিকেটার মোহাম্মদ আমিরের ঘটনা তো মহাতারকার পতনের গল্প। ২০১০ সালের আগস্টে লর্ডস টেস্টে অর্থের বিনিময়ে ইচ্ছাকৃতভাবে নো বল করার অপরাধে ৫ বছরের জন্য নিষিদ্ধ হন তিনি। একই ম্যাচে পাতানো খেলার দায়ে ৭ বছরের জন্য নিষিদ্ধ হন পাকিস্তানের ক্রিকেটার মোহাম্মদ আসিফ। সালমান বাটও একই অভিযোগে নিষিদ্ধ হন ১০ বছরের জন্য। আরেকটি ম্যাচ পাতানোর অভিযোগে আজীবনের জন্য নিষিদ্ধ হন পাকিস্তানের আরেক ক্রিকেটার দানিশ কানেরিয়া।

জুয়াড়িদের কাছ থেকে টাকা গ্রহণ করার অপরাধে ক্রিকেটে আজীবনের জন্য নিষিদ্ধ ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে গ্রেফতার হন ভারতীয় ক্রিকেটার এস শ্রীশান্ত। ২০১৩ সালের ৯ মে আইপিএলে কিংস ইলেভেন পাঞ্জাবের বিপক্ষে একটি ম্যাচে রাজস্থান রয়্যালসের হয়ে পরিকল্পিতভাবে ১৪ রান দেন। পরে ১৬ মে ভারতীয় পুলিশের হাতে গ্রেফতার হন তিনি। যদিও এক মাস পর তিনি জামিনে মুক্তি পান।

মোহাম্মদ আশরাফুল;Ndtv

২০১৩ সালেই ম্যাচ পাতানোর কেলেঙ্কারিতে জড়িয়ে ৫ বছরের জন্য নিষিদ্ধ হন বাংলাদেশি ক্রিকেটার মোহাম্মদ আশরাফুল। বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লীগের ২০১৩ মৌসুমে ম্যাচ ফিক্সিংয়ে সম্পৃক্ততার অভিযোগে নিষিদ্ধ হন। প্রথমে নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ ৮ বছর দেয়া হলেও পরে তা কমিয়ে ৫ বছর করা হয়।

তবে তাদের সকল থেকে সম্পূর্ণ আলাদা আমাদের দেশ সেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান। মাথা নত করেননি জুয়াড়িদের কাছে। বারবার প্রত্যাক্ষাণ করেছেন তাদের প্রস্তাব। কিন্তু ভুল ছিল একটাই, গুরত্ব সহকারে আমলে নেননি বিষয়টি। জানাননি দুর্নীতির বিরুদ্ধে কাজ করে যাওয়া আকসুকে। সে জন্যই সাস্তি পেতে হয় থাকে।

তবে এই বিষয়ের তদন্তের কাজে আকসুকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করায় স্বাস্তির মেয়াদ কমিয়েছে আইসিসি। ১ বছর নির্বাসিত হতে হচ্ছে সব রকমের ক্রিকেট থেকে। ফিক্সিং না করেও এমন নিষেধাজ্ঞা মেনে নিতে পারছেন না ক্রিকেট প্রেমিরা।

শুধু সাকিব নন, তার মতো ফাদে পা দিয়েছিলেন অনেক তারকা ক্রিকেটারই। ফিক্সিং না করেও তথ্য গোপনের অভিযোগে নিষিদ্ধ হতে হয়েছিল তাদের। আজ দ্বিতীয় পর্বে তাদের পরিচয় তুলে ধরা হলো-

ইরফান আহমেদ (হংকং)

২ বছর ৬ মাসের নিষেধাজ্ঞা

ইরফান আহমেদ; Ndtvsports

২০১২ সাল থেকে ২০১৪ সালের মধ্যে বেশ কয়েকবার ম্যাচ পাতানো অফার পান হংকং অলরাউন্ডার ইরফান আহমেদ। এতে তিনি সম্মত না হলেও আকসুকে এই বিষয়ে অবগত না করে গোপন রাখার অপরাধে নিষেধাজ্ঞা পেতে হয় তাকে। ফলে ২০১৬ সালে ২ বছর ৬ মাসের জন্য ক্রিকেট থেকে নিষিদ্ধ করা হয় তাকে।

কুশল লোকুয়ারাচ্চি (শ্রীলঙ্কা)

১৮ মাসের নিষেধাজ্ঞা

২০১৩ সালে বিপিএলে ম্যাচ পাতানোর জন্য লঙ্কান অলরাউন্ডার লোকুয়ারাচ্চিকে প্রস্তাব দেয় জুয়াড়িরা। কিন্তু সে প্রস্তাবে রাজি না হলেও আইসিসির দুর্নীতি দমন বিভাগ আকসুকে এই বিষয়ে আবগত না করায় নিষেধাজ্ঞা পেতে হয় তাকে।

কুশল লোকুয়ারাচ্চি; sportingbd

ফলে ২০১৪ সালে ১৮ মাসের জন্য নিষিদ্ধ হন শ্রীলঙ্কান এই ক্রিকেটার। শাস্তি কমানোর জন্য আপিল করে থাকলেও, এতে কোন প্রভাব পড়েনি। ১৮ মাসের নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকে।

থামি সোলেকিলে (সাউথ আফ্রিকা)

১২ বছরের নিষেধাজ্ঞা

২০১৬ সালে সাউথ আফ্রিকার টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট র‍্যাম স্ল্যামে জুয়াড়িদের প্রস্তাবে ম্যাচ পাতানোর চেষ্টা চালান থামি সোলেকিলে। এই বিষয় গোপন রাখার চেষ্টাও চালান তিনি। আইসিসির দুর্নীতি দমন বিভাগের তদন্তের জুয়ারিদের কাছ থেকে প্রস্তাব পাওয়ার রিপোর্ট উঠে আসে। ফলে এই অভিযোগে ১২ বছরের জন্য ক্রিকেট থেকে নির্বাসিত করা হয় থামি সোলেকিলেকে।

সিদ্ধার্থ ত্রিবেদী (ভারত)

১ বছরের নিষেধাজ্ঞা

সিদ্ধার্থ ত্রিবেদী; pavilion

২০১৩ সালে আইপিএলে রাজাস্থানের হয়ে খেলেন সিদ্ধার্থ ত্রিবেদী। সে বছর ম্যাচ পাতানোর প্রস্তাব পেয়েও গোপন রাখার অপরাধে তাকে ১ বছরের নিষেধাজ্ঞা দেয় আইসিসি। দিল্লি পুলিশের কাছে দেওয়া এক জবানবন্দিতে তিনি জুয়াড়িদের কাছে থেকে টাকা নিয়ে ফেরত দেওয়ার কথাও স্বীকার করেন।

Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More in ক্রিকেট