Connect with us

ফিচার

যোগ্য হয়েও ক্যারিয়ারে বর্ষসেরার পুরস্কার জেতেননি তারা

চলতি মৌসুমে শুরু হয়েছে বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে জনপ্রিয় ইউরোপিয়ান ফুটবলের সবকটা লিগ। ইতোমধ্যেই একাধিক ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছে শীর্ষ ৫ লিগেও। কিন্তু সবকিছুকে পেছনে ফেলে ইউরোপিয়ান বর্ষসেরা ফুটবলারের পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের দিকে দৃষ্টি ছিলো ফুটবল ভক্তদের। গতকাল মোনাকোতে আগামী মৌসুমের চ্যাম্পিয়ন্স লিগের গ্রুপ পর্বের ড্র অনুষ্ঠানে বিজয়ীর নাম ঘোষনা করা হয়েছিলো। উক্ত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পুরস্কারের জন্য মনোনীত মেসি, রোনালদো এবং ভার্গিল ভ্যান ডাইক।

ভার্গিল ভ্যান ডাইক; Image Source: All Football

যদিও রোনালদো এবং মেসিকে পেছনে ফেলে ইউরোপিয়ান বর্ষসেরার পুরস্কার জিতেছেন লিভারপুলের ডাচ ডিফেন্ডার ভার্গিল ভ্যান ডাইক। গত মৌসুমে তার অসাধারণ পারফরম্যান্সের কল্যাণে লিভারপুল জিতেছিলো নিজেদের ষষ্ঠ চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শিরোপা এবং ইউরোপিয়ান সুপারকাপ। প্রিমিয়ার লিগে ৩৮ ম্যাচ খেলেছিলেন তিনি।শুধু তাই নয়, পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে গত মৌসুমে প্রিমিয়ার লিগের সর্বোচ্চ রেটিং প্রাপ্ত ফুটবলার এই ভ্যান ডাইক।

ভার্গিল ভ্যান ডাইক; Image Source: All Football

মাত্র ১ পয়েন্টের জন্য দলকে লিগ শিরোপা জেতাতে না পারলেও মৌসুম শেষে প্রিমিয়ার লিগের বর্ষসেরা ফুটবলারের পুরস্কার জিতেছিলেন ভ্যান ডাইক। তিনি তার এই বিশ্বমানের পারফরম্যান্স চ্যাম্পিয়ন্স লিগেও ধরে রেখেছিলেন। বলতে গেলে লিভারপুল শিরোপা জিতেছে একমাত্র তার কল্যাণে। প্রিমিয়ার লিগ এবং চ্যাম্পিয়ন্স লিগের বিভিন্ন ম্যাচে তিনি মেসি, স্টার্লিং, হ্যারি কেন, কৌতিনহো, সুয়ারেজের মতো তারকাদের মুখোমুখি হয়েছিলেন। কিন্তু কোনো ম্যাচেই তাকে ড্রিবলিং করে বল নিয়ে পেরুতে পারেননি কোনো তারকাই। আর গত মৌসুমে যার এতশত অর্জন সে অবশ্যই ইউরোপিয়ান বর্ষসেরা পুরস্কার ডিজার্ব করে। তাই বলা যায় যোগ্য ব্যক্তির হাতেই উয়েফা পুরস্কারটি তুলে দিয়েছে।

ভার্গিল ভ্যান ডাইক; Image Source: All Football

ইউরোপিয়ান বর্ষসেরার পুরস্কার পাওয়া ভ্যান ডাইক নিঃসন্দেহে এই যুগের সবথেকে সৌভাগ্যবান ডিফেন্ডার। কিন্তু তাকে অবশ্য এই যুগের সেরা বলার উপায় নেই। আর ঐ অবস্থানে যেতে তিনি অবশ্যই রামোস, কার্লোস পুয়্যল, ফিলিপ লামদের মতো ধারাবাহিকভাবে দীর্ঘ সময় বিশ্বমানের পারফরম্যান্স ধরে রাখতে হবে। যদি ভ্যান ডাইকের সঙ্গে উল্লিখিত তিন তারকার ভাগ্যের তুলনা করা হয় তবে বলতে হবে তারা এই যুগের সবথেকে দুর্ভাগা ডিফেন্ডার। কারণ দীর্ঘদিন ইউরোপিয়ান ফুটবলে সেরা ডিফেন্ডারদের কাতারে থেকেও ফুটবলের বড়সড় কোনো ব্যক্তিগত পুরস্কার জিততে পারেননি তারা। চলুন দেখা যাক কেমন ছিলো রামোস, পুয়্যল এবং লামের ক্যারিয়ার।

কার্লোস পুয়্যল

লা মাসিয়া একাডেমিতে বেড়ে উঠা ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা ডিফেন্ডার কার্লোস পুয়্যল। দীর্ঘদিন নেতৃত্ব তিনি দিয়েছেন ফুটবল ক্লাব বার্সেলোনাকে। ওয়ান ক্লাব ম্যান খ্যাত এই তারকা তার সুদীর্ঘ ক্যারিয়ারে জিতেছেন ফুটবলের প্রায় সকল দলীয় শিরোপা। বার্সেলোনার হয়ে ৬টি লা লিগার পাশাপাশি ৩টি চ্যাম্পিয়ন্স লিগও জিতেছেন পুয়্যল। এছাড়াও স্পেনের হয়ে বিশ্বকাপ এবং ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপও জিতেছেন তিনি।

কার্লোস পুয়্যল; Image Source: 90Min

তিনি তার ক্যারিয়ারের সেরা সময়ে মালদিনি, ফাবিও ক্যানভারোর মতো তারকাদের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। কিন্তু কখনো কখনো দেখা যেতো মাঠে পারফরম্যান্সের হিসেবে তাদেরকেও ছাড়িয়ে যেতেন পুয়্যল। ইউরোপিয়ান ফুটবলে যখন ইতালি এবং ইংরেজ ফুটবলের রাজত্ব চলেছিলো ঠিক তখন গার্দিওলার নেতৃত্বে স্প্যানিশদের আধিপত্য কায়েম করেছিলো বার্সেলোনা। আর সেই দলের দলনেতা ছিলেন এই কার্লোস পুয়্যল। অথচ এত এত অর্জন থাকার পরেও ফুটবলের কোনো ব্যক্তিগত পুরস্কার জেতেননি তিনি। একজন ফুটবল ভক্তের চোখে এর থেকে কুৎসিত আর কী বা হতে পারে?

ফিলিপ লাম

বায়ার্ন মিউনিখের একাডেমিতে বেড়ে উঠা সর্বকালের সেরা তারকা নিঃসন্দেহে ফিলিপ লাম। বর্তমানে অবসরে গেলেও দীর্ঘদিন খেলেছেন বায়ার্ন মিউনিখের হয়ে। এছাড়াও ২০১৪ সালে জার্মানির বিশ্বকাপ জয়ী দলের নেতৃত্বও দিয়েছেন ফিলিপ লাম। তবে এর আগের বছর বায়ার্নের হয়ে ক্যারিয়ারের একমাত্র চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জিতেছিলেন তিনি। বলতে গেলে ঐ সময়টাতে ফিলিপ লাম তার ক্যারিয়ারের সেরা সময় পার করেন।

ফিলিপ লাম; Image Source: express Uk

অথচ দীর্ঘ সময় বিশ্বমানের পারফরম্যান্স উপহার দিয়েও ফিলিপ লাম জেতেননি ফুটবলের বড় কোনো ব্যক্তিগত পুরস্কার। তবে ভক্তদের কাছ থেকে তিনি অনেক সম্মান পেয়েছেন। এই যুগে তাকে ঘৃণা করে এমন সমর্থক পাওয়া মুশকিল। ক্যারিয়ারের শেষদিকে অবশ্য আক্ষেপ করে বলেছিলেন, “ফুটবলের ব্যক্তিগত পুরস্কারগুলো শুধুমাত্র গোলদাতাদের জন্যেই সৃষ্টি।” তার কথায় বেশ ভালোভাবেই বোঝা যায় কতোটা আক্ষেপ নিয়ে বুটজোড়া তুলে রেখেছেন এই জার্মান কিংবদন্তি ডিফেন্ডার।

সার্জিও রামোস

তর্কাতীতভাবে ফুটবল ইতিহাসের সর্বকালের সেরা ডিফেন্ডার তিনি। বেড়ে উঠেছেন সেভিয়া ফুটবল ক্লাবে। পরবর্তীতে পাড়ি জমিয়েছেন শতাব্দীর সেরা ক্লাব রিয়াল মাদ্রিদে। ১৩ বারের চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয়ী দলের হয়ে রামোসের ক্যারিয়ারও মোটামুটি দীর্ঘ। বর্তমানে তিনি রিয়াল ও স্পেন জাতীয় দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করছেন।

যদিও ইতোমধ্যে ক্লাব এবং জাতীয় দলের হয়ে ফুটবলের যাবতীয় সকল শিরোপা জিতে নিয়েছেন তিনি। স্পেনের জার্সিতে ২টি ইউরো এবং ১টি বিশ্বকাপের পাশাপাশি রিয়ালের হয়ে রামোস জিতেছেন ৪টি চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শিরোপা। এই শিরোপা ৪টি রিয়াল জিতেছে গত ৫ বছরে। আর পুরোটা সময় রিয়ালের রক্ষণভাগের মূল দায়িত্বে ছিলেন সার্জিও রামোস।

সার্জিও রামোস; Image Source: Express Uk

ব্যক্তিগত রেকর্ডের দিকদিয়ে রামোসের ধারেকাছে নেই কোনো ডিফেন্ডার। শ্রদ্ধেয় পাওলো মালদিনির থেকেও রামোসের ব্যক্তিগত রেকর্ডের তালিকা দীর্ঘ। ফুটবল ইতিহাসের একমাত্র ডিফেন্ডার হিসেবে সর্বোচ্চ ৯ বার ফিফার বর্ষসেরা একাদশে জায়গা পেয়েছেন রামোস। এছাড়াও চ্যাম্পিয়ন্স লিগের বর্ষসেরা একাদশে তিনি জায়গা পেয়েছেন সর্বমোট ৭ বার। এর আগে কোনো ডিফেন্ডার কখনোই এত সংখ্যকবার বর্ষসেরা একাদশে জায়গা পাননি।

অথচ এত এত অর্জনের মাঝেও রামোস ফুটবলের ব্যক্তিগত সেরা পুরস্কারগুলোর কোনোটিই জেতেননি। রিয়াল যখন ৪টি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জিতেছিলো তখন দলে ছিলেন রোনালদো। যার কারণে যোগ্য হয়েও মনোনয়ন পেতেন না রামোস। হয়তো আর কখনোই ফুটবল বিশ্বের ব্যক্তিগত বড় পুরস্কারগুলো জিততে পারবেন না ৩৩ বছর বয়সী এই তারকা।

Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More in ফিচার