Connect with us

ক্রিকেট

এশিয়ার দৈত্যাকার স্টেডিয়ামের গল্প

যদিও ফুটবলে এশিয়রা তুলনামূলক পিছিয়ে রয়েছে ইউরোপ ও দক্ষিণ আমেরিকা থেকে। তবুও থেমে নেই পশ্চিমে মরুভূমির বুকের তেলের সাগরে হাবুডুবু খাওয়া আরব, পূর্বের উন্নত জাপান, কোরিয়া কিংবা দক্ষিণের ভারত, বাংলাদেশের ক্রীড়াচর্চা। ফুটবলে পিছিয়ে থাকলেও এশিয়া অঞ্চলের ক্রিকেট সবার চেয়ে সেরা। ভারত, বাংলাদেশ, শ্রিলংকা, পাকিস্তানের মতো সেরা সেরা ক্রিকেট দলগুলো বেশিরভাগই দক্ষিণ এশিয়ার।

Image Source: Asian Sports

ক্রীড়াঙ্গনে এশিয়ানদের অগ্রযাত্রায় সাক্ষী হয়েছে বিশাল অনেকগুলো স্টেডিয়াম। ইউরোপ ও আমেরিকা নিয়ে ব্যস্ত থাকা আমাদের বর্তমান প্রজন্মের অনেকেই জানেনা এশিয়া মহাদেশের স্টেডিয়াম সম্পর্কে। চলুন দেখে নেওয়া যাক এশিয়া মহাদেশের সবচেয়ে বড় কয়েকটি স্টেডিয়াম সম্পর্কে।

রাংগ্রাডো মে ডে স্টেডিয়াম

এশিয়া মহাদেশের সবচেয়ে বড় স্টেডিয়াম হচ্ছে উত্তর কোরিয়ার রাজধানী পিয়ংইয়ংয়ে অবস্থিত মে ডে স্টেডিয়াম যার অফিশিয়াল নাম রাংগ্রাডো। মে ডে স্টেডিয়াম হিসেবে এটি বিশ্বজুড়ে সর্বাধিক পরিচিত হওয়ার একটি কারণ রয়েছে। স্টেডিয়ামটি তৈরির পর উদ্বোধন করা হয় পহেলা মে যার কারণে প্রতিবছর মে মাসের প্রথম দিন স্টেডিয়ামটির জন্মদিন পালন করা হয় পুরো উত্তর কোরিয়ায়।

Image Source: India Today

দর্শক ধারণ ক্ষমতায় এশিয়ার বৃহত্তম ও দর্শকদের আসনসংখ্যার হিসেবে পৃথিবীর বৃহত্তম এ স্টেডিয়ামে আসন সংখ্যা সর্বমোট ১,১৪,০০০। পৃথিবীর ইতিহাসে কোনো স্টেডিয়ামে এত বিপুল সংখ্যক সমর্থক বসার ব্যবস্থা আজ পর্যন্ত সম্ভব হয়নি। ১৯৮৯ সালের পহেলা মে স্টেডিয়ামটি উদ্বোধন করা হয়।

Image Source: Fb

১৩তম বিশ্ব কিশোর মেলা স্টেডিয়ামটিতে অনুষ্ঠিত হয় যেখানে একসাথে প্রায় ২২,০০০ প্রতিযোগী মাঠে অবস্থান নিয়ে প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেছিলো। ১৭৭টি দেশের ২২,০০০ কিশোর-কিশোরীদের অংশগ্রহণে আয়োজিত ঐ প্রতিযোগিতাটি এখন পর্যন্ত রেকর্ডবুকে জায়গা ধরে রেখেছে। প্রথম পর্যায়ে স্টেডিয়ামটিতে শুধুমাত্র কোরিয়ান বিভিন্ন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হলেও পরবর্তীতে এশিয়ান কিছু প্রতিযোগিতা এখানে স্থান পায়। প্রায় ১ বিলিয়ন ডলার খরচ করে স্টেডিয়ামটি তৈরি করেছিলো উত্তর কোরিয়া সরকার যা বর্তমানে এশিয়ার সর্ববৃহৎ স্টেডিয়াম।

বুকিত জালিল

মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরে অবস্থিত দক্ষিণ এশিয়ার বৃহত্তম ও বিশ্বের নবম বৃহত্তম স্টেডিয়ামটি হচ্ছে বুকিত জালিল জাতীয় স্টেডিয়াম। মালয়েশিয়া জাতীয় ফুটবল দলের জন্য তৈরিকৃত স্টেডিয়ামটিতে ফুটবল ছাড়াও আরো বিভিন্নপ্রকার খেলাধুলার ব্যবস্থা রয়েছে। দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে উন্নত দেশ মালয়েশিয়া ক্রীড়া খাতে প্রচুর বিনিয়োগ করে উন্নতি সাধনের চেষ্টা করেছে। আজকের ব্যয়বহুল বুকিত জালিল স্টেডিয়ামটি তার প্রমাণ।

Image Source: The Star

১৯৯৫ সালে মাঠ তৈরির কাজ শেষ হওয়ার পরেই মালয়েশিয়ান ফুটবল দলের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হয় বুকিত জালিল জাতীয় স্টেডিয়াম। গ্যালারি তৈরির কাজ সম্পূর্ণ করতে অপেক্ষা করতে ১৯৯৮ সাল পর্যন্ত। ১৯৯৮ সালের জানুয়ারির ১ তারিখ মালয়েশিয়ান সরকার এটিকে তাদের ফুটবলের হোমগ্রাউন্ড হিসেবে ঘোষণা দেয়। প্রায় ৮০০ মিলিয়ন ডলার খরচ করে তৈরি করা হয়েছে কুয়ালালামপুরে অবস্থিত বুকিত জালিল স্টেডিয়ামটি।

Image Source: Daily Mail

১৯৯৮ সালে কমনওয়েলথ গেমসের ভেন্যু হিসেবে ব্যবহৃত হয় বুকিত জালিল স্টেডিয়াম। ঐটিই ছিলো স্টেডিয়ামটিতে আয়োজিত প্রথম কোনো আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা। এরপর দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের অনেকগুলো প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয় এ স্টেডিয়ামে। ৮৭,০০০ দর্শক একসাথে বসে খেলা দেখতে পারে বুকিত জালিল জাতীয় স্টেডিয়ামে। দাঁড়ানোর স্ট্যান্ডসহ হিসাব করলে স্টেডিয়ামটির দর্শক ধারণক্ষমতা ১,১০,০০০ যা দক্ষিণ এশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম।

শাহ আলম স্টেডিয়াম

দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে ধনী দেশ মালয়েশিয়া। শিক্ষা, সংস্কৃতি, ব্যবসায়ীক প্রায় সকল ক্ষেত্রেই তারা অন্যদের থেকে অনেক এগিয়ে। ক্রিকেট প্রধান দক্ষিণ এশিয়ার এই দেশটিতেই ফুটবলের প্রসার ঘটেছে ব্যাপকভাবে। গত শতাব্দীর শেষদিকে মালয়েশিয়া সরকার পুরো মালেশিয়ায় অনেকগুলো বিশ্বমানের স্টেডিয়াম তৈরির উদ্যোগ নেয় যার মধ্যে শাহ আলম স্টেডিয়াম অন্যতম।

Image Source: Painters

মালয়েশিয়ার সেলাঙ্গর রাজ্যের শাহ আলমে অবস্থিত স্টেডিয়ামটি ফিফা ঘোষিত বিশ্বের সেরা ১০টি উন্নত প্রযুক্তিসম্পন্ন স্টেডিয়ামের একটি। স্টেডিয়ামটি বিখ্যাত নান্দনিক নির্মাণশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি সমৃদ্ধ হওয়ায়। ১৯৯০ সাল থেকে ১৯৯৪ সাল পর্যন্ত এটির নির্মাণকাজ পরিচালনা করে মালেশিয়ান সরকার। ১৯৯৪ সালে স্টেডিয়ামটিকে সেলাঙ্গন নগর প্রশাসনের কাছে হস্তান্তর করে মালয়েশিয়ান সরকার।ফুটবল মাঠের পাশাপাশি সেখানে রয়েছে অ্যাথলেটিক্স ট্র্যাক। নির্মাণের পর ৮০,৩৭২ দর্শক ধারণক্ষমতাসম্পন্ন স্টেডিয়ামটি ছিলো মালেশিয়ার সর্ববৃহৎ স্টেডিয়াম। পরবর্তীতে বুকিত জালিল প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর এটি দ্বিতীয় অবস্থানে নেমে যায়। দৃষ্টিনন্দন স্টেডিয়ামটি তৈরিতে খরচ হয়েছে প্রায় ১ বিলিয়ন ডলার।

বেইজিং জাতীয় স্টেডিয়াম

২০০৮ সালের বেইজিং অলিম্পিককে কেন্দ্র করে প্রযুক্তির জন্মভূমি চীন যতগুলো স্টেডিয়াম তৈরি করেছিলো তারমধ্যে বেইজিং ন্যাশনাল স্টেডিয়াম সবচেয়ে দৃষ্টিনন্দন। অফিশিয়াল নাম বেইজিং ন্যাশনাল স্টেডিয়াম হলেও এটি বিখ্যাত বার্ডস নেস্ট বা পাখির বাসা নামে। পাখির বাসার মতো করে নির্মাণ করা হয়েছিলো স্টেডিয়ামটি যা পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর ও দৃষ্টিনন্দন স্টেডিয়ামগুলোর একটি।

Image Source: The Guardian

২০০৮ সালের অলিম্পিক গেমসের জন্য বেইজিংয়ে স্টেডিয়াম নির্মাণের ঘোষণা দেয়ার পরে বিশ্ববিখ্যাত শত শত স্থাপত্যবিদরা হাজারখানেক নকশা প্রস্তাব করেছিলো। চাইনিজ কর্তৃপক্ষ পাখির বাসার মতো নকশাটি অনুমোদন দেয়ার পর ২০০৩ সালে এটির নির্মাণকাজ শুরু হয়। ২৭,০০০ টন স্টিলের সমন্বয়ে ৪টি স্ট্যান্ড মিলিয়ে ৫ বছর সময়ে তৈরি করা হয় বেইজিং ন্যাশনাল স্টেডিয়াম।

Image Source: Guardian

অলিম্পিকের সময় এর দর্শক ধারণক্ষমতা ছিলো ৯১,০০০। অলিম্পিক শেষে নতুন করে সংস্কার করে স্থায়ীভাবে স্টেডিয়ামটির দর্শক ধারণক্ষমতা করা হয় ৮০,০০০ যা এশিয়া মহাদেশে দর্শক ধারণক্ষমতার হিসেবে পঞ্চম। পাখির বাসার মতো প্রযুক্তির অবিশ্বাস্য ব্যবহারের মাধ্যমে তৈরি করা স্টেডিয়ামটি ফিফা স্বীকৃত সবচেয়ে সুন্দর স্টেডিয়ামগুলোর একটি।

Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More in ক্রিকেট